স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী
অবশেষে আদালতের নির্দেশে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন নির্দোষ ডাব বিক্রেতা সজল মিয়া (৩৪)। আদালত থেকে অব্যাহতির আদেশের অনুলিপি কারাগারে পৌঁছালে বুধবার রাত ৯টার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। রাজশাহী কারাগার থেকে সন্ধ্যার পর সাধারণত বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয় না। তবে সজল মিয়াকে মানবিক বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থায় রাতেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার রাতে সজলের মুক্তির কাগজপত্র কারাগারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সজল মিয়া রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লার তোফাজ উদ্দিনের ছেলে। সজলের বড় ভাই সেলিম ওরফে ফজল একটি মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি। ২০০৯ সালে মামলার রায় ঘোষণার আগে থেকেই তিনি পলাতক। গত ৩০ এপ্রিল সজলকে গ্রেফতার করে আদালতে ফজল হিসেবে উপস্থাপন করে নগরীর শাহমখদুম থানা পুলিশ। এরপর গত ২৬ মে আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করে মুক্তির আবেদন জানান সজল।
বুধবার শুনানিশেষে তথ্য-প্রমাণেরভিত্তিতে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের (প্রথম) বিচারক মো. মনসুর আলম সজলকে মুক্তি দেন। একইসঙ্গে আসামি না হওয়া সত্ত্বেও কেন সজলকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তার জবাব দিতে শাহমখদুম থানার ওসি এস এম মাসুদ পারভেজকে শোকজ করেন আদালত।
স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর ছোটবনগ্রাম পশ্চিমপাড়া মহল্লায় বোন পিয়ারি বেওয়ার বাড়ির পাশেই বাস করেন সজল। বৃহস্পতিবার সকালে দুটি বাড়িই তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মোবাইলে সজলের বোন পিয়ারি বেওয়া বলেন, তিনি বাইরে কাজ করেন। তাই বাড়িতে তালা। আর জেল থেকে বের হয়ে সজল আরেক বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছেন। পিয়ারি বলেন, পুলিশ এত বড় ভুল কীভাবে করেছিল তা বুঝতে পারছি না। এ ভুলের জন্য থানার ওসি বিপদে পড়তে পারেন। কিন্তু আমরা আবার নতুন করে কোনো বিপদে পড়ি কি না সেই চিন্তা করছি।