ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৮ এলাকা জলাবদ্ধতাপ্রবণ

গত কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। চলতি বছরের বিভিন্ন সময় সামান্য বৃষ্টিতেও ডুবে যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অন্তত ৩০টি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, তাদের আওতাধীন ৪৮ এলাকাকে জলাবদ্ধতাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ঐসব এলাকায় অস্থায়ী পাম্প বসানোর জন্য ঢাকা ওয়াসাকে সুপারিশ করেছে ডিএসসিসি। যাতে পানি দ্রুত পাম্প দিয়ে সরিয়ে ফেলা যায়। এছাড়া আওতাধীন এলাকায় ড্রেন, বক্স কালভার্ট, খালে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসসিসি।

জানা যায়, রাজধানীর বৃষ্টির পানি ড্রেনের মাধ্যমে বক্স কালভার্ট বা স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন নিচু এলাকা, জলাশয়, খাল বা নদীতে গিয়ে পড়ে। ঢাকায় প্রায় দুই হাজার ৪০০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের দুই হাজার এবং ওয়াসার ৪০০ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় সাড়ে আট কিলোমিটার বক্স কালভার্ট এবং ৩৫০ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন রয়েছে। ঢাকা ওয়াসা এগুলো দেখাশোনার দায়িত্বে। তবে এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না বলে বৃষ্টির পর পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয় না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে ময়লা-আবর্জনা জমে বক্স কালভার্ট, স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনগুলোতে মাটি ও রাবিশ জমে প্রায়ই অকেজো হয়ে গেছে। খালগুলো ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলো পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা দুই সেবাসংস্থা সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসা পরস্পরকে দোষারোপে ব্যস্ত। তবে নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে ঢাকার জলাবদ্ধতা অনেকাংশ কমানো সম্ভব। আসন্ন বর্ষায় দক্ষিণ সিটিতে জলাবদ্ধতা এড়াতে ড্রেন, কালভার্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫১টি স্লুইস গেট দিয়ে সংস্থাটির আওতাধীন এলাকার পানি নিষ্কাশন হয়। জলাবদ্ধতাপ্রবণ ৪৮টি এলাকার পানিও বিভিন্ন ড্রেন হয়ে স্লুইস গেট দিয়ে আশেপাশের নদীতে গিয়ে পড়ে। এর মধ্যে মতিঝিল, দিলকুশা, দৈনিক বাংলা, শান্তিনগর, মালিবাগ, মৌচাক, সেগুনবাগিচা, পল্টন, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, সার্কিট হাউস রোড, রাজারবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরাপুল ও আরামবাগ এলাকার পানি সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট-কমলাপুর পাম্প-মানিক নগর খাল-জিরানি খাল ও মান্ডাখাল হয়ে চলে যায় বালু নদী ও বুড়িগঙ্গায়। নিউমার্কেট পশ্চিম-দক্ষিণ পাশের বটতলা, বিজিবি-৪ নম্বর গেটের পানি বিজিবি ৩ নম্বর গেট, নাজিমউদ্দিন রোড, হোসেনি দালান, চকবাজার, লালবাগ, কাজী আলাউদ্দিন রোড ও বংশালের এলাকার পানি বুড়িগঙ্গা স্লুইসগেট হয়ে বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে পড়ে। অন্যদিকে পান্থপথ বক্স কালভার্ট-হাতিরঝিল হয়ে রামপুরা খাল দিয়ে বালু নদীতে গিয়ে পড়ে কাঁঠাল বাগান, গ্যাস্ট্রোলিভার গলি, কলাবাগান ডলফিন গলি, গ্রিন রোড, মাদারটেক ও মেরাদিয়া এলাকার পানি। অন্যদিকে খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদার পানি বাসাবো-মাদারটেক-ত্রিমোহনী খাল হয়ে গিয়ে পড়ে বালু নদী ও বুড়িগঙ্গায়। জিয়া সরণি খাল-রসুলবাগ-শিমরাইল পাম্প (পানি উন্নয়ন বোর্ড) হয়ে শীতলক্ষ্যায় গিয়ে পড়ে জুরাইন, পোস্তগোলা, মুরাদপুর, শ্যামপুর, কদমতলা ও দয়াগঞ্জ রেল ব্রিজের পানি। কাপ্তান বাজার, লক্ষ্মীবাজার ও আগামসি লেনের পানি ইংলিশ রোড-ধোলাইখাল বক্স কালভার্ট হয়ে সূত্রাপুর পাম্পে নিষ্কাশন হয়।  ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সার্কেল পুর) কাজী বোরহান উদ্দিন জানান, আসন্ন বর্ষার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে জলাবদ্ধতা মনিটরিং কমিটির সভা হয়েছে। জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলোতে অস্থায়ী পাম্প বসানোর সুপারিশ করা হয়েছে।