সামাজিক সংলাপে বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা। এর মূলে রয়েছে বৈষম্য আর সম্প্রীতির অভাব। শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধনে দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও বর্তমানে সেখানে সব ক্ষেত্রেই দেখা দিয়েছে বৈষম্য। সমাজের বিবিধ বৈষম্যের বিষয়ে তরুণ প্রজন্মের মনে তৈরি হচ্ছে নানা প্রশ্ন। সেইসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তরুণদের ভাবনার কথাই জানান বক্তারা।
গতকাল রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘শান্তি ও সম্প্রীতির সমাজ নির্মাণঃ তারুণ্যের ভাবনা’ বিষয়ক সামাজিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সামাজিক সংলাপের যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ অধ্যায়ন কেন্দ্র ও লোকায়ত বিদ্যালয়। সংলাপের মিডিয়া পার্টনার ছিল ডেইলি নিউ এজ।
সামাজিক সংলাপে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র চিন্তা ঢাকা ইউনিটের সদস্য সারোয়ার তুষার, ইউল্যাব ইউনিভার্সিটির প্রভাষক হিয়া ইসলাম, পরিবেশ ও নবায়নযোগ্য শক্তি বিষয়ক কর্মী মাহবুব সুমন, অধ্যায়ন কেন্দ্রের গবেষক মালীহা মহসিন, সমাজকর্মী নিষাদ প্রধান, চিন্তক এর মওলানা রাকিব হাসান, ফিল্ম মেকার জাফর মুহাম্মদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সহ-সভাপতি চন্দ্রা ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, অরাজ নেটওয়ার্কের প্রতিনিধি খন্দকার তুর আজাদ, অধ্যায়ন কেন্দ্রের গবেষক উছাছা এ চাক, অধ্যায়ন কেন্দ্রের গবেষক আহবাব ইউসুফ খান, মাদল এর সদস্য অন্তনী রেমা, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনিক, সমাজকর্মী অর্চি প্রমুখ। সামাজিক সংলাপ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যায়ন কেন্দ্রের সদস্য মোহায়মিয়ান লায়েস।
সামাজিক সংলাপের বিষয় ছিল— গণতন্ত্র, বসবাসযোগ্যতা, সড়ক দুর্ঘটনা, শিক্ষাব্যবস্থাসহ আরো অনেক জরিপ সূচকের বাংলাদেশের সমাজ-রাষ্ট্রের মান তলানিতে। এসব সূত্র ধরে নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের বর্তমান ভবিষ্যত্ নিয়ে সংলাপ আয়োজিত হবে।
মনোবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণায় অর্চি ও মালীহা মহসিন বলেন, সমাজের অস্থিরতার কারণে মানের মধ্যে যে অস্থিরতা তৈরি হয়, সেটা এক পর্যায়ে মনের রোগে পরিণত হচ্ছে, কিন্তু সেটা বোঝার মতো অবস্থা বা সমাজে এর চিকিত্সা নেওয়ার মতো ব্যয় বহনও আমাদের সাধারণ মানুষের সাধ্যে নেই। ফলে সমাজে বাড়ছে মানসিক রোগীর সংখ্যা। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন আত্মহত্যা করে। আর মানসিক এসব সমস্যার মূলে সামাজিক বৈষম্য আর অস্থিরতাকেই দায়ী করেন তারা।
ক্ষৃদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ গবেষক চন্দ্রা বলেন, আমার সংস্কৃতির পোশাক পরতে গিয়ে বার বার ভাবতে হয়, এই পোশাক পরে চলতে গেলে আমাকে সহজে শনাক্ত করতে পারবে যে, আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মেয়ে। সে কারণে নির্যাতনে শিকার হওয়ার ভয়টাও কাজ করে। এই ভাবনাগুলো শুধু আমার ভেতরে নয় প্রতিটি ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর নারীর ভেতরে অনেক ছোটবেলা থেকে গেঁথে যায়। সেটাও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। এই ভাবনাগুলোকে একপাশে সরিয়ে আমিও নেতিবাচক আশা নিয়ে এগিয়ে এসেছি। আশা করছি সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্যে কিভাবে কাজ করা যায়। সংলাপে তরুণ বক্তারা বলেন, সম্প্রতি বাজেটে বলা হচ্ছে— দেশের প্রবৃদ্ধি সাত বা আট জিডিপির উপরে। প্রতিবছর আমাদের সামনে জিডিপির এ ধরনের একটা সংখ্যা উপস্থাপন করা হচ্ছে। যা থেকে সাধারণ জনগণ কিছুই বুঝতে পারে না। ফলে, ‘আমরা কেমন আছি’, প্রশ্নের উত্তরে, না বুঝেই ‘ভালো আছি’ বলতে হচ্ছে। কিন্তু কিভাবে ভালো আছি সেটা কেবল একটা অর্থনৈতিক সংখ্যার সঙ্গে কি সম্পর্কিত বিষয়? এমন প্রশ্ন রাখেন তরুণরা।