দিনে রিকশাভ্যান চালক রাতে ভয়ঙ্কর ডাকাত

ঢাকা জেলার সাভার, আশুলিয়া, নবাবগঞ্জ, দোহার ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তিনটি ডাকাত দলের ১৭ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় ডাকাতির কাজে ব্যবহূত একটি অত্যাধুনিক শটগান, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তিনটি ডাকাত দল একই চক্রের সদস্য, যারা দিনের বেলায় লুঙ্গি পড়ে রিকশাভ্যান চালায় এবং রাতের বেলায় ডাকাতি করে থাকে। শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলো- রিপন, বাবুল মিয়া ওরফে লম্বা বাবুল, আনোয়ার হোসেন বাবু, হাসান শেখ ওরফে হবিবুর রহমান হবি, সাইদ, আলামিন, নাসির শেখ, নুর হোসেন ওরফে নুরুল ইসলাম মোল্লা ও সাইফুল আলম শেখ। গ্রেফতারকৃত অন্যদের নাম এখনো জানা যায়নি। 

পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাত সদস্যরা জানিয়েছে, তারা ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে। দিনের বেলায় তারা লুঙ্গি পড়ে রিকশাভ্যান চালায় এবং রাতে ডাকাতি করে থাকে। ডাকাতির আগে তারা পৃথকভাবে বাসে চড়ে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে গিয়ে একত্রিত হয় এবং ডাকাতি করে বিভিন্ন জঙ্গলে অবস্থান নেয়। পরে ভোর রাতে ডাকাতির কাজে ব্যবহূত অস্ত্র ফেলে দিয়ে যার যার বাসায় চলে যায়। প্রতিবার ডাকাতির আগে তারা নতুন নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা আরও জানায়, কুখ্যাত ডাকাত সাইফুল আলম শেখের নেতৃত্বে সাইফুল গ্রুপ, বাবুল ওরফে মোটা বাবুলের নেতৃত্বে বাবুল গ্রুপ এবং রিপন মোল্লার নেতৃত্বে রিপন গ্রুপসহ মোট তিনটি গ্রুপে অন্তত অর্ধশতাধিত ডাকাত সদস্য ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালঞ্জ ও ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত রাস্তা ও বাসাবাড়িতে ডাকাতি, ছিনতাই ও গরু চুরিসহ নানা অপরাধ করে থাকে।

ডাকাত সর্দার সাইফুলের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ৯টি মামলা এবং রিপনের বিরুদ্ধে ১২ টি মামলা এবং মোটা বাবুলের নামে ১৩টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে রিপন গ্রুপের সর্দার রিপন মোল্লা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় এবং অপর ডাকাত সর্দার মোটা বাবুল গত ১০ জুন আশুলিয়ায় মরাগাং এলাকায় দুই দল ডাকাতের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গ্রুপ তিনটির বাকি ডাকাত সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মাসুদ আহমেদ ভূইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাইদুর রহমান, সাভার মডেল থানার ওসি এএফএম সায়েদ, আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু, ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আবুল বাশার প্রমুখ।