আপাতদৃষ্টিতে যেটি প্রায় অসম্ভব ছিলো, শুধু ছিলো কজাগজ কলমের কিছুটা সম্ভাবনা, সেটিই এখন বাস্তব হওয়ার পথে। নেদারল্যান্ডের কাছে ১৩ রানে হেরে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সামনে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দরজা খুলে দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি এখন পরিণত অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে। যে জিতবে সেই চলে যাবে বিশ্বকাপের শেষ চারে। এমন অবস্থায় রবিবার (৬ নভেম্বর) অ্যাডিলেড ওভালে টসে জিতে নেদারল্যান্ডকে বোলিংয়ে পাঠায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ডাচদের ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার স্টিফেন মাইবার্গ ও ম্যাক্স ও’ডাউড। দু'জন মিলে ৫৮ রানের জুটি গড়েন। তবে এরপরই ৩০ বলে ৩৭ রান করে আউট হন মাইবার্গ। মাইবার্গের বিদায়ের পর টম কুপারকে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে আরও ৩৯ রান যোগ করেন।
কিন্তু দলীয় ৯৭ রানে ৩১ বলে ২৯ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ম্যাক্স ও’ডাউড। তার বিদায়ের কিছু পরেই আউট হয়ে যান ওয়ান ডাউনে নামা টম কুপার। ১৯ বলে ৩৫ রান করে আউট হন তিনি। এরপর দলীয় ১২৩ রানে ৭ বলে মাত্র ১ রান করে আউট হন বাস ডি লিড। অন্যদিকে সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকেন কলিন অ্যাকারম্যান। ২৬ বলে ৪১ রানে অপরাজিত থাকেন কলিন অ্যাকারম্যান।
শেষ পর্যন্ত আর কোন উইকেট না হারিয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে নেদারল্যান্ড। প্রোটিয়াদের পক্ষে কেশভ মহারাজ ২টি আর নর্থজে ও মার্করাম নেন ১টি করে উইকেট।
১৫৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে কিছুটা আক্রমণাত্নক খেলতে থাকে দুই প্রোটিয়া ওপেনার ডি কক ও বাভুমা। কিন্তু দলীয় ২১ রান প্রথম উইকেট হারায় তারা। ১৩ বলে ১৩ রান করে আউট হন ডি কক। এরপর দলীয় ৩৯ রানে আবারও উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলীয় ৩৯ রানে আউট হন আরেক ওপেনার বাভুমা। ২০ বলে ২০ রান করে আউট হন তিনি।
ম্যাচে বড় কোন জুটি গড়তে ব্যর্থ হয় প্রোটিয়া ব্যাটাররা। দলীয় ৬৪ ও ৯০ রানে রাইলি রুশো ও এইডেন মার্করামের উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। রুশো ১৯ বলে ২৫ ও মার্করাম ১৩ বলে ১৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।
এরপর দলীয় ১১২ রানে ডেভিড মিলার আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় প্রোটিয়ারা। ১৭ বলে ১৭ রান করে আউট হন তিনি। মিলারের বিদায়ের পর পরই আউট হন ওয়ায়েন পার্নেল। শেষ পর্যন্ত শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রোটিয়াদের প্রয়োজন হয় ২৬ রান। এই ওভার থেকে ১২ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান তুলতে সক্ষম হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে ১৩ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এই হারের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে সেমিফাইনালের দরজা খুলে গেল বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের।
...