শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পাঁচক গ্রামে একটি বাড়ির নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকের জমে থাকা গ্যাসে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আরো তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ওই গ্রামের সালাউদ্দিন গোরাপির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত দুজন হলেন— সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণ শ্রমিক শাহআলম গোরাপির ছেলে সাহাদাত্ গোরাপি (২০) ও লিটন খানের ছেলে তারিকুল ইসলাম খান (১৯)। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি তিনজন হলেন—আলী হোসেন বাঘার ছেলে আজিজুল বাঘা, সফদর গোরাপির ছেলে রুবেল গোরাপি ও বাদশা গোরাপির ছেলে অপু গোরাপি। তাদের বাড়ি পাঁচক গ্রামে।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় গ্রামবাসী সূত্র জানায়, দুই মাস আগে নির্মাণ করা ওই সেপটিক ট্যাংকের ছাদ ঢালাইয়ের কাঠ খোলার জন্য নির্মাণ শ্রমিক সাহাদােক নিয়ে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সালাউদ্দিন গোরাপি সেখানে যান। সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা খোলার পর নীচে নামলে সাহাদত্ অচেতন হয়ে পড়েন। তার কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে সালাউদ্দিন তাদের প্রতিবেশী তরিকুল ইসলাম খানকে ওই ট্যাংকে নামান। নিচে নেমে সেও অচেতন হয়ে পড়েন। কিছু বুঝতে না পেরে সালাউদ্দিন আরো তিন জনকে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে নামান। খবর পেয়ে ৪০ মিনিট পর তরিকুল ইসলামের বাবা লিটন খান তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বেলা ২টার দিকে হাসপাতালের চিকিত্সক তরিকুল ইসলাম ও সাহাদাত্ গোরাপিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সালাউদ্দিন গোরাপির বসতঘর ভাঙচুর করেন। সালাউদ্দিন তার পরিবার নিয়ে গ্রাম থেকে পালিয়ে যান।
তরকুিলের বাবা লিটন খান বলেন, আমি ডেকরেটর ব্যবসায়ী। আমার বোন মোবাইলে দুর্ঘটনার খবর দেয়। ছুটে এসে দেখি সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন সেপটিক ট্যাংকের উপর দাঁড়ানো। তখন আমি একটি মই দিয়ে ওই ট্যাংকে নেমে সবাইকে টেনে ওপরে তুলি। আমার মানিকের নিথর দেহটিও তুলি। ওরা নিচে যাওয়ার অন্তত ৪০-৫০ মিনিট পর আমি ওদের উদ্ধার করেছি।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিত্সক তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, বদ্ধ একটি ট্যাংক, সেখানে বাতাসের কোনো প্রবাহ ছিল না, অক্সিজেনের অভাব ছিল। দীর্ঘদিন বদ্ধ থাকায় সেখানে গ্যাস জমে গিয়েছিল। ওই গ্যাসেই তারা আক্রান্ত হয়েছে। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।