বরিশালের বাকেরগঞ্জে চরাদী ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো। ছাগলদী মাদরাসা এলাকার হলতা-বাদলপাড়া খালের উপর এটি নির্মিত। যা দিয়ে প্রতিদিন পরাপার হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
সরেজমিনে ও স্থানীয় লোকদের থেকে জানা যায়, বহু বছর থেকে তারা এ সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন। কয়েক বছর ধরে উপর মহলে যোগাযোগ করে একটি ব্রিজের ব্যবস্থা করতে পারেননি। সকলে মিলে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে পারাপারের উপযোগী করা হয়েছে। কিন্তু যাতায়াতের চাপে বিভিন্ন সময় বড় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সাঁকো পার হয়ে হলতা বন্দর, মকিমাবাদ বন্দর চরামদ্দি হাট এবং গুয়াখোলা হাটে লোকজন চলাচল করে। এছাড়া হলতা বন্দর শের-ই-বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রানীরহাট হাই স্কুল, মকিমাবাদ আমিনা বালিকা বিদ্যালয়, ছাগলদী নেছারিয়া দাখিল মাদরাসা, পূর্ব চরাদী দাখিল মাদরাসা, বাদলপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আতাহার উদ্দিন হাওলাদার কলেজের হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রীরা নিয়মিত আসা যাওয়া করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাগলদী গ্রামের খবির হাওলাদার বলেন, এই জরাজীর্ণ সাঁকো দিয়ে ঐতিহ্যবাহী হলতা বাজারে আসা অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও বিভিন্ন কোম্পানির লোকজন যাতায়াত করে। কিন্তু সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ছোট ছোট কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের সাঁকো পারাপারে অনীহা প্রকাশসহ বাজারে ক্রেতা -বিক্রেতাও অনেকাংশে কমে গেছে।
চরাদী গ্রামের সিরাজ হাওলাদার বলেন, অনেক বছর এলাকার লোকজন চরম দুর্ভোগে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোটি পার হচ্ছে। দ্রুতগতিতে এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ না হলে দু’পাশের দশ গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।
ছাগলদী নেছারিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ সাঁকো সংলগ্ন আমাদের মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক ছাড়াও ছাগলদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্তোষদী এন্তাজ মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলতা সুরাত মেমোরিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হলতা ফজলুল হক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকসহ এলাকার বিভিন্ন লোকজন পারাপার হয়। মাঝে মাঝে দুর্ঘটনাও ঘটে।
হলতা বন্দরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সুলাইমান বর্তমান সরকারের প্রতি যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সরকারের যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চলমান তার ধারাবাহিকতায় দ্রুত ছাগলদী মাদরাসা সংলগ্ন হলতা-বাদলপাড়া খালের উপর একটা ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।
চরাদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এখানে ব্রিজ নির্মাণের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেছি, ব্রিজ বরাদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত যোগাযোগ অব্যাহত রাখব।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবুল খায়ের মিয়া বলেন, সাঁকো দিয়ে পাড়া-পাড়ে সৃষ্ট সমস্যার বিষয় আমি জেনেছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা করা হবে।