রাজধানীর রামপুরা থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার (নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ ফরহাদ জানিয়েছেন, ফারদিনের দেহে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
চিকিৎসক বলছেন, ফারদিনের পুরো মাথার বিভিন্ন অংশে আঘাত পাওয়া গেছে। বুকের ভেতরে আঘাতের চিহ্ন আছে। প্রাথমিকভাবে আমরা বুঝতে পেরেছি, এটি অবশ্যই হত্যাকাণ্ড। দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এদিকে, ফারদিনের বন্ধু ও বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাদের দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও আটক দেখানো হয়নি।
সোমবার (৭ নভেম্বর) বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বনানী ঘাট সংলগ্ন লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের পেছনে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বুশরা ও শীর্ষ সংশপ্ত নামে ফারদিনের দুই বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।
তিনি বলেন, সব সিসিটিভি ফুটেজ এখনও সংগ্রহ করা হয়নি। ফারদিনের বাবার জিডির পর পুলিশের সব ইউনিট তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিলাম। তবে আমরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, আমরা জনসন রোডের লোকেশন পেয়েছি। সর্বশেষ ফারদিনের লোকেশন ছিল কেরানীগঞ্জে। সে কেন কেরানীগঞ্জ গেল, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ (২৪) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ফতুল্লা থানার নয়ামাটি দেউল পাড়া কুতুবপুর এলাকার কাজী নুরুদ্দীন রানার ছেলে তিনি। ঢাকার ডেমরার শান্তিবাগ এলাকায় বসবাস করেন তারা।