প্রত্যেক বছর পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে বাজার মন্দা গেলেও মৌসুমের শেষ সময়ে বাজার বেশ বৃদ্ধি পায়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা হলেও লাভ হয়। কিন্তু এ বছর মৌসুম শেষ হয়ে আবার আগাম আবাদ করা (মূলকাটা) পেঁয়াজ বাজারে ওঠার সময় হয়ে গেলেও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে পেঁয়াজ আবাদে খ্যাত পাবনার সুজানগরের হাট-বাজারে পেঁয়াজের বাজার বাড়েনি। বরং শেষ মুহূর্তেও পেঁয়াজের বাজারে ধস নামছে। এতে পেঁয়াজ আবাদ করে কৃষকের লাভের যে স্বপ্ন সেটি ভেঙ্গে গেছে।
উপজেলার মানিকহাট গ্রামের পেঁয়াজ চাষি ওমর আলী প্রামাণিক বলেন, এ বছর প্রতিমণ পেঁয়াজ আবাদ করতে সার, বীজ এবং শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ হয়েছে ১২‘শ থেকে ১৩‘শ টাকা। অথচ বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১১থেকে ১২‘শ টাকা দরে। এতে উৎপাদন খরচের চেয়ে প্রতিমণে ২ থেকে ৩‘শ টাকা লোকসান হচ্ছে।
উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের আদর্শ পেঁয়াজ চাষি কামরুজ্জামান বলেন, প্রত্যেক বছর পেঁয়াজের ভরা মৌসুমে প্রতিমণ পেঁয়াজ ৯‘শ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও মৌসুমের শেষ দিকে প্রতিমণ পেঁয়াজ ১৫‘শ থেকে ২হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা হলেও লাভ হয়। কিন্তু এ বছর মৌসুমের শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাজার তেমন বৃদ্ধি পায়নি। বরং দফায় দফায় বাজারে ধস নেমেছে। ফলে এ অবস্থায় উপজেলার কৃষকেরা পেঁয়াজ আবাদে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাফিউল ইসলাম বলেন, হাট-বাজারে দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের বেশ সরবরাহ রয়েছে। সেকারণে বাজার বাড়ছে না।