দুই যুগ ধরে বন্ধ ‘টাঙ্গাইল কটন মিলস’

প্রায় দুই যুগ ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল কর্পোরেশনের রাষ্ট্রয়াত্ত একমাত্র সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টাঙ্গাইল কটন মিলস। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলে লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধ রয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। এতে মিলের কয়েক শত কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও ভবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেকার হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।

টাঙ্গাইল কটন মিলস সুত্রে জানা গেছে, ২৬ একরেরও বেশি এলাকা নিয়ে ১৯৬২ সালে চালু হয় টাঙ্গাইল কটন মিলের এক নম্বর ইউনিটটি। এটিই ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের রাষ্ট্রয়াত্ব একমাত্র প্রথম সুতা উৎপাদনের মিল। মিলের উৎপাদন ভাল হওয়ায় ১৯৭৮ সালে দুই নম্বর ইউনিট চালু হয়। এই মিলে হাই কোয়ালিটির ৮০, ৬০, ৭০ ও ৪০ কাউন্টের সুতা উৎপাদন হতো। মিলের উন্নত মানের সুতা উৎপাদন হওয়ায় দেশে-বিদেশে রপ্তানি করে সরকার প্রচুর বৈশ্বিক মুদ্রা আয় করে। দুই ইউনিটি মিলে এলাকার ৩ থেক ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। মিলটিকে ঘিরে এখানে গড়ে ওঠে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি ডাকঘর, পল্লী বিদ্যুৎ সাব স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা। মিলটি বন্ধ হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানও এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে বেকারের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।

মিলের সাবেক কর্মচারীদের মধ্যে বাবুল সিকদার (৪৫), আব্দুর রশিদ (৫০) ও রহমান সুবাদর (৫৬) অভিযোগ করেন, টাঙ্গাইল কটন মিলের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সিবিএ নেতাদের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দুর্নীতির কারণে ৮৫-৯০ দশকে মিলটি লোকসানের মুখে পড়ে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিবিএন নেতাদের সিন্ডিকেটের কারণে ঋণের ভার জর্জরিত হয়ে পড়ে মিলটি। ফলে ১৯৯৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় মিলের দুই নম্বর ইউনিটটি। বেকার হয়ে পড়ে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচরী। এক নম্বর ইউনিটটি চালু থাকলেও লোকসানের কারণে সেটিও ২০০৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়। 

আরও পড়ুন:  হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১

মিলের দুইটি ইউনিটি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ৩ থেকে ৪ হাজার শ্রমিক কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েন। বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল কটন মিলের কয়েক শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে। এছাড়া মিলের বেশ কিছু সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
 
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল কটন মিলের প্রধান নির্বাহী মো. রবিউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল কর্পোরেশনের প্রথম সুতা উৎপাদন প্রতিষ্ঠান ছিল টাঙ্গাইল কটন মিল। ঐ সময়ে লোকসানের কারণে মিলটি বন্ধ থাকায় এলাকায় বেকার শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। বর্তমান সরকার দেশে বন্ধ মিল চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। টাঙ্গাইল কটন মিলটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিএম) মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আসা করা হচ্ছে অল্প কিছু দিনের মধ্যে মিলটি পুনরায় চালু হবে।'

জানা যায়, মিলটি দেখাশুনার জন্য একজন প্রধান নির্বাহীর নেতৃত্বে দৈনিক বেতন ভুক্ত ২৩ জন কর্মচারী কাজ করে যাচ্ছেন। মিলটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনার শিপের মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হলে এলাকার বহু বেকার যুবক যুবতীর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং সরকারও প্রচুর লাভবান হবে বলে জানান মিলের সাবেক কর্মচারীরা।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি