আফ্রিকা মহাদেশে চীনা অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলি সমগ্র অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে চীনের তৈরি নজরদারি ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। আর এই ক্রমবর্ধমান নজরদারি ব্যবস্থায় চীন খুব শিগগিরই হয়তো আফ্রিকার অধিকাংশ দেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা সক্রিয় করে তুলতে পারে। এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম দ্য সিটিজেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন বিশেষভাবে সেনেগাল, ঘানা, সিয়েরা লিওন, গিনি, নাইজেরিয়া, গাম্বিয়া এবং টোগোর মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলির দিকে মনোনিবেশ করা শুরু করেছে। এই ক্ষেত্রে, এই দেশগুলির বেশিরভাগই অব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে যা চীন তার নিজস্ব প্রাকৃতিক সম্পদের প্রয়োজনে শোষণের জন্য একটি রিজার্ভ হিসাবে দেখেছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে ছোট কাউন্টি গাম্বিয়াতে বেশ কিছুদিন থেকেই বিক্ষোভ চলছে।
২০১৬ একটি চীনা মালিকানাধীন ফিশমিল ফার্ম এই অঞ্চলে একটি কারখানা খুলেছে, তার সমস্ত বর্জ্য পদার্থ সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে। এই বর্জ্য ফেলার সামুদ্রিক প্রাণী থেকে শুরু করে সমুদ্র-পাড়ের জনজীবন এখন বেশ হুমকির মুখে। দূষণ ছড়াতে শুরু করার পরপরই, স্থানীয়দের অভিযোগ, পানির রং বদলাতে শুরু করে এবং সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীরাও মারা যেতে শুরু করেছে।
এদিকে ওই এলাকার স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
এদিকে সিঙ্গাপুর পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার ৩৫টিরও বেশি দেশের জন্য চীন ব্যাপক সংখ্যক সরকারি ভবন নির্মাণ করেছে। ২০১৮ সালে একটি ফরাসি সংবাদপত্র চীনা সংস্থাগুলো যে ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত আফ্রিকান ইউনিয়ন ভবন থেকে সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে সেই খবর প্রকাশ করেছিল।
ওই ভবনে থাকা কম্পিউটারগুলিতে তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অনেক সার্ভার পাওয়া যায়, যেগুলো চীনের সাংহাইতে তথ্য স্থানান্তরে সক্ষম ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অর্থায়নের পাশাপাশি আফ্রিকান ইউনিয়নের জন্য ভবন নির্মাণে জড়িত থাকায় পুরো কারচুপি প্রক্রিয়াটা চীনের জন্য সহজ হয়েছে। এই ঘটনাটি আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন দেশে চীনা প্রকল্পগুলির পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার বিষয়টি খুব জোরেশোরে সামনে নিয়ে আসে।
গত দুই দশক চীনা বিনিয়োগের বিস্ময়কর উত্থানের সাক্ষী হয়েছে আফ্রিকা মহাদেশ। এই মহাদেশ জুড়ে অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প যেমন সড়কপথ, রেলপথ, বন্দর, বিদ্যুৎ হাব ও ফিশিং ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগ কাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই বিনিয়োগ।