সত্যজিত্ বিশ্বাস
এই গুণ আছে
বলেই তো
প্রথম ব্যক্তি :আশ্চর্য মানুষ তো আপনি! সবাই মিলে আপনাকে এত গালাগালি করল, তারপরও নির্বিকার হয়ে কথা শুনছেন। এত ধৈর্য পেলেন কোথা থেকে?
দ্বিতীয় ব্যক্তি :এই গুণ না থাকলে কী বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড় হওয়া যায়?
ঈদ সংগীতানুষ্ঠান
মামা :কীরে গায়কের গান শুনে দাঁড়িয়ে পড়লি যে? জাতীয় সংগীত তো আর গাইছে না।
ভাগ্নে :তা না কিন্তু একটা গানকে এমন নির্দয়ভাবে হত্যা করছে, সেই নিহত সংগীতের সম্মানার্থে উঠে দাঁড়াব না?
কালাম ভাইয়ের বয়ান
বিডি টাইগার :কী কালাম ভাই, আপনারে তো সবাই খোঁজে, এই গুহায় কেন?
ম্যাককালাম :শুনছি গুহায় লুকাইলে নাকি উদ্দেশ্য সফল হয়। তাই, বাংলা মাইরের হাত থিক্কা বাঁচনের লাইগ্যা এইখানে আইছি।
বিডি টাইগার :এমন বয়ান দেন কেন, যে বয়ান দিয়া গুহায় লুকানো লাগে?
ম্যাককালাম :বিশ্বাস করেন ওস্তাদ, এইসব মিডিয়ার সৃষ্টি। ‘বাদ’টাই কাইট্টা বাদ দিয়া দিছে ওরা।
বিডি টাইগার :তার মানে? আপনে কন নাই, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে একটা ম্যাচ জিতব!
ম্যাককালাম :না ওস্তাদ, কইছি বাংলাদেশ বিশ্বকাপে একটা ম্যাচ ‘বাদে’ সব জিতব। এমন খারাপের খারাপ ওরা, ‘বাদ’টাই কাইট্যা বাদ দিয়া দিছে।
হারলাম কই? ম্যাচ তো ড্র
সৃজন :কীরে মন খারাপ কেন?
পার্থ :কেন আবার? খেলা দেখে। ইশ, ইংল্যাল্ডের সাথে আমরা এমনভাবে হারলাম।
সৃজন :হারলাম কই? ম্যাচ তো ড্র হয়েছে।
পার্থ :কী বলছিস এসব? মাথা ঠিক আছে?
সৃজন :মাথা ঠিক থাকবে না কেন? ওরা একটা পার্ট জিতেছে, আমরা একটা পার্ট জিতছি। তো, ম্যাচ ড্র হলো না?
পার্থ :ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচে আমরা কোন পার্ট জিতলাম?
সৃজন :কেন? আমরা টস জিতেছি না?
পার্থ :তো?
সৃজন :তো, আমরা টস জিতেছি আর ওরা বেশি রান করে জিতেছে। ম্যাচ ড্র ১-১।
উচ্চশিক্ষা লাভের আশায়
স্যার ক্লাসে সব কাজে ‘দেশপ্রেম’-এর ভূমিকা বোঝাচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে টানলেন বিশ্বকাপ ক্রিকেটারদের।
স্যার :এই যে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছে, বল তো কেন তাঁরা নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলে?
ছাত্র :উচ্চশিক্ষা লাভের আশায়।
স্যার :কী বললে? খেললে উচ্চশিক্ষা লাভ করা যায়?
ছাত্র :যায় তো। সবাই কি প্লেনে চড়ে বিদেশে খেলতে যায় না?
এখনো নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বয়স হয়নি?
ঈদে ট্রেনে সিট না পেয়ে প্রচণ্ড ভিড়ে দাঁড়িয়ে ঢাকায় ফিরছে অনেকে।
প্রথম ব্যক্তি :ভাই, আপনার বয়স কত?
দ্বিতীয় ব্যক্তি :কেন, আমার বয়স দিয়ে আপনার কী দরকার?
প্রথম ব্যক্তি :খুবই জরুরি দরকার। প্লিজ বলেন না, আর তো পারছি না।
দ্বিতীয় ব্যক্তি :কী আশ্চর্য! আর পারছেন না মানে?
প্রথম ব্যক্তি :না মানে, আপনার কী এখনো নিজের পায়ে দাঁড়ানোর বয়স হয়নি? সেই কখন থেকে আমার পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছেন।
ভয় দেখালেন নাকি অভয় দিলেন?
ঈদে বাসে সিট না পেয়ে প্রচণ্ড ভিড়ে দাঁড়িয়ে ঢাকায় ফিরছে অনেকে।
সিটে বসা ব্যক্তি :সেই তখন থেকেই দেখছি ঠেলতে, ঠেলতে আমার বউয়ের গায়ের ওপর উঠে পড়ছেন। সমস্যাটা কী?
দাঁড়ানো ব্যক্তি :সরি ভাই।
সিটে বসা ব্যক্তি :সরি, সরি তো সেই কখন থেকেই বলে যাচ্ছেন, সরছেন না তো। তারচেয়ে এক কাজ করেন, কোলে এসে বসেন।
দাঁড়ানো ব্যক্তি :ভাই কি ভয় দেখালেন নাকি অভয় দিলেন?
আজাইরা সান্ত্বনা
স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়ে দেওয়ার পর এক লোক দৌড়াতে দৌড়াতে চলন্ত ট্রেনের পেছনে ছুটতে লাগল। অনেক ছুটেও নাগাল না পেয়ে হাঁপাতে দেখে তাঁকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলো একজন।
—আহারে, অল্পের জন্য ট্রেনটা ধরতে পারলেন না। মন খুব খারাপ হয়ে গেছে, তাই না?
হাঁপাতে হাঁপাতে বলল ট্রেন মিস করা লোকটি, ‘নাহ, মন খারাপ হবে কেন?’
—ট্রেন ধরতে পারলেন না, সেজন্য মন খারাপ হয়নি?
—আমি তো ট্রেনটা ধরতে আসিনি, ধাওয়া দিতে এসেছিলাম।
সান্ত্বনা দিতে আসা লোকটি সোজা হাঁটা দিল।
আজ পর্যন্ত কাউকে উপরে রেখে আসিনি
জীবনে প্রথম প্লেনে চড়ে ঈদের ছুটিতে বেড়াতে যাচ্ছে এক লোক।
লোকটি :কিছু মনে করবেন না, একটা কথা বলি?
প্লেনের পাইলট :হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।
যাত্রী :প্লেন কি মাটি থেকে অনেক উপর দিয়ে যাবে?
প্লেনের পাইলট :হুম, অনেক উপর দিয়ে যাবে। কেন?
লোকটি :না মানে, জীবনে এই প্রথম প্লেনে চড়ছি। এত উঁচু দিয়ে যাব, তাই বলছিলাম কি সাবধানে নামিয়ে দিয়েন।
প্লেনের পাইলট :এ নিয়ে একদম ভাববেন না। আজ পর্যন্ত কাউকে উপরে রেখে এসেছি—এমন অভিযোগ কেউ দিতে পারবে না।
ফ্রিতে লেজার শো
বাচ্চা :বাবা, বাবা দেখ, আকাশে কেমন বিদ্যুত্ চমকাচ্ছে!
বাবা :ওরে আস্তে বল। ‘ফ্রিতে লেজার শো দেখছি’ শুনতে পেলে বিদ্যুত্ অফিস থেকে বিল পাঠিয়ে দেবে।
ট্রান্সলেশন
স্যার :ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন কর—মেঘ ডাকছে।
অপু :Megh is Calling.
স্যার :তপু, তুই ট্রান্সলেশন কর তো—বৃষ্টি পড়ছে।
তপু :Bristi is reading.
স্যার :বিপু, তুই ট্রান্সলেশন কর তো—বিদ্যুত্ চমকাচ্ছে।
বিপু :Biddut is flashing.
স্যার অজ্ঞান।
জেনে নিন
—বলেন তো দেখি, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় কোথায়?
—কী বললেন, মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে? হয়নি। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয় ফেসবুকে।
বিশ্ব মহাসাগর দিবস
আটলান্টিক মহাসাগর :৮ জুন তো বিশ্ব মহাসাগর দিবস চলে গেল, কেউ আমাদের নিয়া একটা কথাও বলল না, এটা কী ঠিক?
ভারত মহাসাগর :ঠিকই বলছেন ভাই। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।
প্রশান্ত মহাসাগর :আর বিহিত! পুরা পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগই জল। মোটে এক ভাগ স্থল হয়েও মহাদেশরা কেমনে সাত ভাই হয় বলেন? আর আমরা তিন ভাগ জল হয়েও পাঁচ ভাই মানে সংখ্যালঘু! আছে এর বিহিত?
কুইজ
শরিফ :বলোতো, কোন জিনিস ছাড়া মানুষ চলতে পারে না?
রাজু :এটা তো খুব সহজ—পা।
শরীফ :হলো না, ‘টাকা’।
রাজু :কেমন করে?
শরীফ :পা ছাড়াও মানুষ দেশ-দেশান্তরে যায়, বেড়াতে পারে। টাকা ছাড়া পারে?
বৃষ্টি হলো ক্রেডিট কার্ডের মতো
প্রেমিক :দেখ, দেখ কী সুন্দর বৃষ্টি হচ্ছে। চল ভিজি।
প্রেমিকা :উহু। এই বৃষ্টি হলো ক্রেডিট কার্ডের মতো।
প্রেমিক :সে কেমন?
প্রেমিকা :এখন মজা পাওয়া যাবে কিন্তু পরে চড়া মূল্য দিতে হবে।