ইউক্রেনের গোয়েন্দা বিভাগ (এসবিইউ) মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) ঐতিহাসিক চার্চটিতে তল্লাশি অভিযান চালায়। কিয়েভের এই শতাব্দী প্রাচীন গির্জাটি বরাবরই রাশিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। চার্চটি সম্প্রতি রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই মঙ্গলবার আচমকাই চার্চে অভিযান চালান গোয়েন্দারা। খবর ডয়চে ভেলের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশ শতকে চার্চটি তৈরি হয়েছিল। কিয়েভের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত চার্চটি রাশিয়ার অধীনে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাগ হলেও অর্থোডক্স চার্চের নিয়ন্ত্রণ ছিল রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ কর্তৃপক্ষের হাতে। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর চার্চটি ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে বলে চার্চের দাবি।
কিন্তু এসবিইউর বক্তব্য, প্রকাশ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও চার্চটি এখনো রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার গুপ্তচরদের কার্যকলাপের অন্যতম কেন্দ্র এই চার্চটি। সে জন্যই সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।
তল্লাশি অভিযানের পর ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, 'ইউক্রেন চায় না ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এই চার্চ রাশিয়ার অভিযানের কেন্দ্র হয়ে উঠুক। চার্চটিকে রাশিয়া অস্ত্রভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না।'
যদিও রাশিয়া এই তল্লাশি অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছে। রাশিয়ান অর্থোডক্স চার্চের মুখপাত্র ভ্লাদিমির লেগোয়দা জানান, 'ইউক্রেনের ধার্মিক মানুষের জন্য এ এক চরম আঘাত। আমাদের একটাই প্রার্থনা, এই তল্লাশি অভিযান বন্ধ হোক। ইউক্রেনের মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।'