পানিবন্দি অনেক পরিবার

দাকোপে নদীর গর্ভে ২০০ মিটার বেড়িবাঁধ

খুলনার দাকোপে পশুর নদের প্রবল ভাটার টানে ২০০ মিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধসহ ১৫টি বসতঘর পশুর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভাঙনসংলগ্ন এলাকা থেকে আরও একাধিক পরিবার তাদের বসত বাড়ির মালামাল রক্ষার্থে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। তলিয়ে গেছে কৃষকের আধা পাকা আমন ধানের খেত। এতে ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভেসে গেছে দুইটি গ্রামের প্রায় অর্ধশত পুকুরের সাদামাছ।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা সদর পানখালী ইউনিয়নের পানখালী খলিসা স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১ নম্বর পোল্ডারের ওয়াপদা বেড়িবাঁধে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ ভাঙন ও ফাঁটল দেখা দেয়। পরে বুধবার গভীর রাতে প্রায় ২০০ মিটার বাঁধ পশুর নদী গর্ভে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। এ সময় মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বাঁধের পাশেই ১২টি বসতবাড়ি ও নানা স্থাপনা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন এলাকা থেকে অনেক পরিবার তাদের বসত বাড়ির মালামাল রক্ষার্থে তা ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। পশুর নদের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় বড় খলিশা ও পানখালী গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক বসত বাড়ি প্লাবিত হয়ে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এছাড়া প্রায় ১ হাজার বিঘা আধা পাকা আমন ফসলের খেতে পানি ঢুকে পড়ায় এলাকার শতশত কৃষক পরিবার সম্পূর্ণভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে বুধবার দুপুরে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি। তিনি এ সময় পাউবোর কর্তৃপক্ষকে নদী ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময়ে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মিন্টু বিশ্বাস, পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের, ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মণ্ডল, ইউপি সদস্য শেখ শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য জ্যোতিশংকর রায়, পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী মো. তাহমিদুল ইসলাম প্রমুখ।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খান জানান, আর কয়েক দিন পর আমন ধান কাটা শুরু হবে। এখন কৃষকের আধা পাকা ধানক্ষেত পানিতে ডুবে থাকলে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ পানি নেমে যাওয়ার সময় ঐ ধান গাছগুলো নুয়ে পড়ার শঙ্কা বেশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিন্টু বিশ্বাস বলেন, পানখালী খলিস স্লুইসগেটসংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করেছি। এছাড়া ভাঙন কবলিত স্থানে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য পাউবো’র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, আপাতত বাঁধ সংস্কার করা হয়েছে। এতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে না। তবে শিগগিরই ঐ স্থানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে।