সরকারের বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাত নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বরং ব্যাংক খাতের বদলে বৈদেশিক উত্সসহ অন্যান্য আর্থিক খাত থেকে এ ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, অন্যথায় বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হয়ে আসে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সংগঠনটির প্রতিক্রিয়া তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে।
বাজেটে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে এ সময় এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। অবশ্য বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন সদ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সভাপতি ফজলে ফাহিম। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা ছোট-বড় কোনো ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোনো হয়রানি থাকবে না, ভোক্তাপর্যায়ে কোনো খরচ বাড়বে না। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সহযোগিতা করবে।
এফবিসিসিআই মনে করে, বিশাল রাজস্বের লক্ষ্য আদায় সম্ভব হবে। তবে এ জন্য সহজ, স্বচ্ছ, অনুমানযোগ্য ও ধারাবাহিক নীতিমালায় হয়রানিমুক্ত রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা ও অটোমেশন প্রয়োজন। বাজেটে নতুন করে আসা পরিবর্তন নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করে শিগগিরই এফবিসিসিআইয়ের পরামর্শ অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে বলে জানান শেখ ফজলে ফাহিম। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বিস্তৃত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ইনফরমাল অর্থনীতিকে ফরমাল অর্থনীতিতে আনার চেষ্টা চলছে। কর্মসংস্থান তৈরি হলে এই সিদ্ধান্ত নেতিবাচক কিছু নয়। গার্মেন্টস খাতের কর হার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কর বাড়ানোর পর অতীতেও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার পর কমেছে। এবারো আমরা ইস্যুটি নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করব। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি হাসিনা নেওয়াজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।