বাস্তবসম্মত বাজেট টেকসই অর্থনীতিকে আরো মজবুত করবে :কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যমূলক ও গণকল্যাণমুখী। দলের নির্বাচনী ইস্তেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এ বাজেট দেশের আর্থ-সামাজিক বিকাশ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করবে। টেকসই অর্থনীতিকে আরো মজবুত করবে। গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরো বলেন, বাজেট নিয়ে বিএনপির     বিরূপ সমালোচনা মনগড়া এবং গতানুগতিক। বিএনপি ১০ বছর ধরে বাজেট সম্পর্কে যে মনোভাব প্রকাশ করেছে, এবারও ঠিক তাই করেছে। এটা তাঁদের নেতিবাচক রাজনীতির নেতিবাচক মনোভাবেরই প্রতিফলন। তাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া বাজেটের বিস্তৃতি অনুধাবনের ক্ষমতা নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত দেশ গঠনের সব উদ্যোগ ও লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর বাজেট এটি। ২০২০ সাল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এটি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাজেট। এ বাজেটের বিস্তৃতি ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ। তিনি বলেন, এ বাজেটে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন, ২১০০ সাল ডেল্টা প্লানের বিস্তৃতি রয়েছে। এ বাজেট শুধু অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বাজেট নয়, এটি একটি মানবিক বাজেট। প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার জন্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি খাতকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনার কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার এ বাজেট বাস্তবায়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করলেন, কিন্তু শপথ গ্রহণ করলেন না, আসন শূন্য ঘোষিত হওয়ার পর সে আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নও দিলেন, তারপরও কীভাবে তিনি বর্তমান সরকারকে অনির্বাচিত বলেন তা কারো কাছেই বোধগম্য নয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট ভালোভাবে পড়তে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান কাদেরের

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ভালোভাবে পড়ে নেতিবাচক সমালোচনার জবাব দিতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ঢাকা বিভাগের এক বিশেষ সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক শ্রেণির মানুষ আছে যারা বাজেট নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়, সরকারকে বিপাকে ফেলতে চায়। এখন বাজেট তাদের কাছে নতুন ইস্যু। তারা বাজেটের সমালোচনা করছে।

আগামীতে সফলভাবে দলের কাউন্সিল সভা আয়োজন করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সংগঠনে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব হচ্ছে দুর্বলতা। আর দুর্বলতার ওপরেই সবাই আঘাত হানে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মারুফা আক্তার পপি, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাউসার প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।