দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে হাঁটুপানি

গতকাল দুপুরে মাত্র দেড় ঘণ্টার ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ডুবে যায় হাঁটু সমান পানিতে। এমনকি আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নাসিরাবাদ অংশসহ বিভিন্ন পয়েন্টে, বিশেষ করে দক্ষিণ পাশের লেনের প্রায় সিকি কিলোমিটার অংশের কোথাও কোথাও প্রায় দেড় ফুট পানি জমে যায়। দুই নম্বর গেট পয়েন্টে ফ্লাইওভারের পশ্চিম অংশের কয়েকটি স্থানেও বৃষ্টির পানি জমে। ফলে উড়াল পথে যান চলাচলের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ময়লা-আবর্জনায় ফ্লাইওভারের পানি নিষ্কাশনের পাইপগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ফ্লাইওভারের জলাবদ্ধতা ছিল সাময়িক। বিকাল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে ফ্লাইওভারের পানি সরে যায়।  অন্যদিকে বৃষ্টিতে নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, নাসিরাবাদ সিডিএ এভিনিউর বিভিন্ন পয়েন্ট, হামজারবাগ   চান্দগাঁও, বাকলিয়া, বিবিরহাট, মোহাম্মদপুর, কাতালগঞ্জ, হালিশহর, আগ্রাবাদসহ অন্তত পঁচিশটি পয়েন্টে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়া খাল ও নালা নগরীর পাহাড় ও উঁচু এলাকা থেকে নেমে আসা পানি বহন করতে না পারায় সেগুলো ফুঁসে উঠে মুরাদপুর মোড়, নাসিরাবাদ সিডিএ এভিনিউর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশ্বরোডের উপর দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। বৃষ্টির চেয়েও সড়ক ও মাঠঘাটে উপচে পড়া পানি মহানগরীতে জনজীবনের গতিকে স্থবির করে দেয়। এই পরিস্থিতি দেখা গেছে হাটহাজারী সড়কের মহানগরী অংশেও।

এদিকে নগরীতে খাল পুনরুদ্ধার, নালা-নর্দমা সংস্কারে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে, খাল-নালার আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি বিএস, আরএস রেকর্ড ধরে খাল-নালা অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সূত্রটি আরো জানায়, এই প্রকল্পের সুফল হয়তো এ মুহূর্তে বা এবছর না-ও মিলতে পারে। তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে চট্টগ্রামবাসী দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন।