আধুনিক বিশ্বের সময় উপযোগী গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে পাবনার বেসরকারি উন্নয়নমূলক সংস্থা ওসাকা বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে, পিকেএসএফ এর সহযোগিতায় সাসটেইনেবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি) প্রকল্পের আওতায় ১৫ জন উদ্যোক্তাকে ১৪ দিনব্যাপী ওয়েডিং গাউনের উপর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
১২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণে জেলার সম্ভাবনাময় ১৩ জন নারী ও ২ জন পুরুষ উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করে। এই উদ্যোক্তারা মূলত মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওসাকা বিগত তিন বছর পাবনার গার্মেন্টস সেক্টরের পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে চলছে। যেখানে মালিক, কর্মীসহ কারখানার কর্মপরিবেশ পরিবেশসম্মত রেখে উৎপাদন করানোটাই মূল্য লক্ষ্য। এছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে ন্যাচারাল ডাইং ও মেয়েদের বিয়ের গাউন তৈরির প্রশিক্ষণ ও মার্কেটিং অন্যতম কর্মকাণ্ড। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার পিছিয়ে পড়া এইসব উদ্যোক্তাদের দেশ-বিদেশে কাজের অভিজ্ঞা সম্পন্ন সুনামধন্য ফ্যাশন ডিজাইন কন্সালট্যান্ট নুসরাত জাহান নিপার তত্ত্বাবধায়নে ৪ জনের একটি টিম ১৪ দিনের এই প্রশিক্ষণটি সম্পন্ন করেন।
প্রশিক্ষণ সম্পর্কে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ওয়াজেদ বিশ্বাস রিপু বলেন, ওসাকা দীর্ঘ ২৭ বছর পাবনার পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করছে। উদ্যোক্তা ও নতুন নতুন পণ্য তৈরি এবং তাদের তৈরিকৃত পণ্য দেশি-বিদেশি প্রিমিয়াম মার্কেটে প্রবেশ করানোর লক্ষ্য ওয়েডিং গাউনের তৈরির পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। আমরা মার্কেট সার্ভে করে দেখেছি এই গাউনগুলো শুধু পশ্চিমা দেশের মেয়েদের ওয়েডিং গাউন হিসেবে ব্যবহার হয় না। আমাদের দেশের উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়েদের বিয়েতেও এই পোশাকের চাহিদা অনেক। মূলত এই পোশাকগুলো থাইল্যান্ড ও ভারত থেকে থেকে আমদানি করা হয়। যে খাতে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।
ফ্যাশন ডিজাইন কন্সালট্যান্ট নিপা বলেন, আমাকে যখন পাবনায় এই ধরনের প্রশিক্ষণের অফার করা হয় তখন বিষয়টিকে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল। যেখানে আমরা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ৪ বছরের অনার্স কোর্সে এই গাউন তৈরি শেখানো হয়। সেখানে একজন ট্রেইলরিংম্যান কিভাবে মাত্র ১৪ দিনে এই কাজটি সম্পন্ন করবে? কিন্তু আমার ধারণা ভুল প্রমাণ করে স্থানীয় প্রশিক্ষণার্থীবৃন্দ।