আলোর পাখি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপন 

সাধারণ মেয়েদের জন্য মাসিক বিষয়টা যেমন সহজ না তেমন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মেয়েদের জন্য এই ব্যাপারটা আর বেশি কঠিন, নারীদের জন্য মাসিক স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি লাইটশোর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বাচ্চাদের স্কুল আলোর পাখির  প্রাঙ্গনে একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপন করা হয়েছে। 

আলোর পাখি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ঝুমনা মল্লিক, লাইটশোরের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা রাজিয়া, জেসিআই উদ্যোক্তা নাহিদ হাসানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট শিল্পী মোরশেদ মিশু। এই ইভেণ্টে সার্বিক সহযোগিতায় সেনোরা, মিডিয়া পার্টনার ইত্তেফাক, রেডিও ক্যাপিটাল এবং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল জেসিআই এন্টারপ্রেনার। 

সাধারণ বাচ্চাদের পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজন শিশুরা যাতে নিয়মিত মাসিক স্বাস্থ্য বিধি গুলো জানতে পারে এবং তারা যখন মাসিক চক্র সম্পর্কে প্রশ্ন করে তখন তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্যের মাধ্যমে তাদের বিশেষ চাহিদাগুলিকে সহজতর করা অপরিহার্য। অসহায় যেহেতু তারা, ভিন্ন হয়ে হয়ে জন্মগ্রহণ করে তাদের বোঝা, যত্ন আদ্দি এবং সর্বোপরি ভালবাসা প্রয়োজন। লাইটশোর ফাউন্ডেশন এই শিশুদের জীবনকে কিছুটা সহজ করার উদ্দ্যেশে সেনোরা প্রযোজিত একটি স্যানিটারি বক্স ইউনিট ইনস্টল করতে পেরে সম্মানিত বোধ করেছে। লাইটশোর এর আগে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় স্যানিটারি বক্স স্থাপন করেছে।

লাইটশোর ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে আলোর পাখি স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপন

জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু বলেন, স্যানিটারি ন্যাপকিন সাধারণত বেশিরভাগ মেয়ের বাবা বা ভাই কিনে থাকেন তবুও তারা বাবা অথবা ভাইদের  সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করেন। আমি বিশ্বাস করি, মাসিক নিয়ে মেয়েদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি ছেলেদেরও ভুল ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং যেহেতু মাসিক প্রত্যেকটি মেয়ের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তাই সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার গুলোর এই বিষয় নিয়ে সচেতনতার সাথে সাথে বিনামূল্যে ন্যাপকিন বিতরণ করা উচিত ।

আলো পাখি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ঝুমনা মল্লিক ঝুমি বলেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মেয়েদের মাসিক পিরিয়ডের জন্য প্রস্তুতির টা সাধারণ মেয়েদের থেকে একটু ভিন্ন। তারা ভিজ্যুয়াল লার্নার, তাই তাদের ব্যবহারিক উদাহরণ এবং সামাজিক গল্প দ্বারা সবকিছু শেখানো হয়। সেনোরার এই স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের কাজ আমাদের জন্য সহজ করা হয়েছে। বাচ্চারা এটি প্রতিদিন দেখবে এবং এর ব্যবহার শিখবে এবং পাশাপাশি আমাদের সন্তানদের মায়েরা এবং নারী শিক্ষকর ও থেরাপিস্টর এই প্যাড ব্যবহার করবেন।

লাইটশোর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সুলতানা রাজিয়া বলেন, নারী এবং  স্কুল-কলেজের মেয়েদের মাসিকের স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে আমরা ঢাকার ভিতরে এবং বাইরে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে জয়ী প্রকল্পের শিরোনামে এই বক্সগুলি স্থাপন শুরু করেছি। এই প্রকল্পে নিয়মিত স্কুলের পাশাপাশি আমরা একটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বাচ্চাদের স্কুলে একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন বক্স স্থাপন করে আমাদের যাত্রা শুরু করেছি। সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য হল মহিলাদের জন্য স্যানিটারি ন্যাপকিন হাতের নাগালে নিয়ে আসা  এবং তারা যাতে কম খরচে সেগুলি কিনতে সক্ষম হয় তা নিশ্চিত করা।