মোরেলগঞ্জে শুরু হচ্ছে ২০৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী কালাচাঁদ আউলিয়ার মেলা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তিনদিন ব্যাপি ২০৮ তম ঐতিহ্যবাহী কালাচাঁদ আউলিয়ার মেলা শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) থেকে তিনদিন চলবে এ মেলা। করোনা জটিলতায় ৩ বছর এ মেলা বন্ধ ছিল। এ বছর মেলার অনুমতি দেওয়ায় এলাকাবাসী চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে।

মেলা শুরুর দুই তিন দিন আগে থেকেই এখানে প্রচুর লোক সমাগম হতে থাকে। ইতোমধ্যে শত শত দোকানীরা মেলা প্রাঙ্গন ও তার আশপাশে এলাকায় পশরা সাজিয়ে বসেছে। দক্ষিনাঞ্চলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও আশেকানবৃন্দ ও দর্শনার্থীরা এ মেলা দেখতে আসে। দোকানি, দর্শর্নার্থী ও ভক্তবৃন্দের উপচে পড়া লোক সমাগম ঘটে কালাচাঁদের মেলায়।

২০৭ বছর আগে শিশু কালাচাঁদ আউলিয়া পানগুছি নদীতে ভেসে এসেছিল এবং বারইখালী কাজী বাড়ি এলাকায় আস্থানা গেড়েছিল। লোকমুখে রয়েছে তার বিভিন্ন ধরনের অলৌকিক কাহিনী। 

৮৫ বছরের বৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেক কাজী অলৌকিক কাহিনীর বর্ননা দিতে গিয়ে বলেন, এক লোক শীতার্ত কালাচাঁদকে দেখে তার গাঁয়ের চাদর দিয়ে দেয়। কালাচাঁদ চাদরটি পেয়ে তার সামনে জলন্ত আগুনে ভিতরে ফেলে দিলে তা পুড়ে যায়। এতে ঐ লোকটি আফসোস করলে কালাচাঁদ জ্বলন্ত আগুন থেকে অক্ষত চাদরটি উঠিয়ে তাকে ফেরত দেয়। সমসাময়িক সময়ে কালাচাঁদ আউলিয়া নাকি বাঘের পিঠে ঘুরে বেড়াত। এভাবে তার নামে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। বারইখালী ফকিরের তাকিয়া মৌজা তার নামেই হয়েছে। বারইখালীর কাজী বাড়ির চত্বরে তিনি আস্তনা গড়েন এবং আর এখানেই তিনি জ্যান্ত কবর নিয়েছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তার নামে এখানে প্রতিবছর মেলা বসে। ৩ দিন ব্যাপি অনুষ্ঠিত মেলায় রাতভর চলবে ওয়াজ মাহফিল, ওরশ, মুর্শিদী ও মাইজ ভান্ডারী গান। ভক্তবৃন্দরা কালাচাঁদ আউলিয়ার মাজারে আগরবাতি আর মোমবাতি দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। হাজারো ভক্তরা মনের আশা পূরন আর মানতের টাকা পয়সা মাজারে দান করে তৃপ্ত হবে। 

উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এ মেলা চলে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদাধিকার বলে মেলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিনে পুরানো ঐতিহ্যবাহী এ মেলা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উৎযাপনের জন্য সার্বিক ব্যবস্থা  গ্রহন করা হয়েছে। আইন শৃংঙ্খলা রক্ষায় থাকবে পুলিশ প্রশাসন। মেলার অনুমতি দেওয়ার এলাকাবাসী বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আ্যডি.আমিরুল আলম মিলন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।