দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় 'মান্দাউস'। তবে এখন এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিতে ভারতের তামিলনাড়ু ও পুদুচেরি উপকূল অতিক্রম করছে। জি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবার (ডিসেম্বর 9) চেন্নাইয়ের মামাল্লাপুরমের কাছে ঘূর্ণিঝড়ের বর্ধিত স্থলভাগের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।
ঝড়ের প্রভাবে ইতোমধ্যেই ওই এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে, সঙ্গে ভারী বৃষ্টিও হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানিয়েছে, যেহেতু এটি বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক এক হাজার ৬০০ কিলোমিটার দূরে, তাই এই ঘূর্ণিঝড়ের কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে পূর্বের মতো ২ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
২ নম্বর সংকেত মানে অনেক দূরে গভীর সমুদ্রে একটি ঝড় তৈরি হয়েছে। বন্দরটি এখনো ঝড়ের প্রভাবে পড়েনি, তবে বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো পথে বিপদে পড়তে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে চলাচলকারী সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে সাবধানে উপকূলের কাছাকাছি আসতে বলা হয়েছে। এছাড়াও তাদের গভীর সাগরে বিচরণ নিষিদ্ধ।
আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ৬২ কিমি প্রতি ঘণ্টা। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিমি পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছিল।
চার দিন আগে দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপ থেকে এই ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়। গভীর নিম্নচাপ শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর আঞ্চলিক ঘূর্ণিঝড় সংস্থা এসক্যাপের তালিকা অনুযায়ী এর নামকরণ করা হয়েছে 'মান্ডাউস'। আরব আমিরাতের প্রস্তাবিত নামটির অর্থ আরবি ভাষায় 'ট্রেজার চেস্ট'।
ভারতের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই ঝড় বৃষ্টির সঙ্গে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে। শনিবারের (১০ ডিসেম্বর) মধ্যে এটি ধীরে ধীরে একটি স্থল নিম্নচাপে পরিণত হবে।