তালায় বোরোর আগাম জমি চাষ

আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ থাকায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বোরো চাষে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন নিয়ে কৃষক আগাম জমি চাষ শুরু করেছেন। বৃষ্টিপাত কম থাকায় আমনের ফলন ভালো না হওয়ায় লোকসান পুষিয়ে নিতে আগেভাগে চাষ শুরু করেছে কৃষক। এ বছর কৃষকেরা ব্রি-৮৮ ও ভারতীয় রডমিনিকেট জাতের ধান চাষের লক্ষ্যে বীজতলা তৈরি করেছেন। 

তালা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ধানের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক উঁচু জমিতে আগেভাগে চাষ শুরু করেছে।  

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সব এলাকায় আমন ধান কাটা শেষের পথে। নিচু জমিতে বীজতলা তৈরি করে অনেক কৃষক আগাম চারা তৈরি করে জমি চাষ শুরু করেছে। অনেক কৃষক মৎস্য ঘেরে মাছ ধরে ধান রোপণ করবেন। তারা দেরিতে বীজতলা তৈরির কাজ করছেন। সবমিলিয়ে উপজেলায় সর্বত্র কৃষক চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে। 

লক্ষণপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, গত বছর ভালো ফলন হওয়ায় এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ রোপণ করছেন। তাছাড়া এলাকার কৃষক ব্রি ধান-৮১, ৮৮, ৬৩ ও হাইব্রিড-শক্তি-২, তেজ গোল্ড ব্রাক-১৭, রড মিনিকেট, শুভলতা জাতের ধানের বীজতলা তৈরি করেছে। তিনি আরও জানান, নিজেদের জমি ও নিজস্ব ব্লক থাকায় আগাম চাষ শুরু করেছি। তাহলে ধান আগে কাটা পড়বে দামও বেশি পাওয়া যাবে। 

কৃষক আজিবার রহমান বলেন, ‘আমার নিজের জমি নেই, বর্গাচাষ করি। পরের জমিতে মেশিন বসিয়ে চাষ করি। চারা তৈরির জন্য বীজতলা তৈরি করছি। ডিজেলের দাম বেশি হওয়াতে বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা।’

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কল্যাণ কুমার পাল বলেন, ‘আমার ব্লকে কৃষকদের সুষম মাত্রা সার ব্যবহার, জৈব ও অজৈব, সার প্রয়োগ পোকামাকড় দমনসহ কৃষকদের নানাবিধ পরামর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে। 

তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, তালা উপজেলার শতকরা ৮০জন লোক কৃষি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাছাড়া ধানের মূল্য বেশি হওয়াতে কৃষক তাদের সবটুকু জমি চাষাবাদ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।