ইত্তেফাক রিপোর্ট
প্রস্তাবিত বাজেটে কাঁচা পাট রপ্তানিতে উেস কর হ্রাস করে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)। পাশাপাশি কাঁচা পাট খাতে আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের জন্যও দাবি জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় এ তথ্য উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ)। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী কাঁচা পাটকে কৃষিপণ্য ঘোষণা দিলেও অধ্যাবধি তার বাস্তবায়ন হয়নি। প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পাটখাত ও কাঁচা পাট ব্যবসায়ীদের সম্পর্কিত কোনো বক্তব্য উপস্থাপিত হয়নি, ফলে ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকরা হতাশ হয়েছে। এর ফলে কাঁচা পাট ব্যবসায়ীরা পাট রপ্তানিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
বিজেএ উল্লেখ করেছে, প্রায় দুইশ বছর পূর্ব হতে এদেশের মাটিতে কাঁচা পাটের ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিদেশে কাঁচা পাট রপ্তানি করে প্রায় ১৩শ কোটি টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১৪টি দেশে ৭ হাজার ১৭০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়েছে। পণ্যে পাটজাত মোড়ক বাধ্যতামূলক করায় পরিবেশবান্ধব পাটের চাহিদা বিশ্বব্যাপী বেড়েই চলেছে। তাই কাঁচা পাটকে অবহেলা বা ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। শতভাগ রপ্তানি নির্ভর কাঁচা পাটের রপ্তানি বৃদ্ধি করতে বাজেটে আলোকপাত করা অপরিহার্য। দেশে উত্পাদিত মোট পাটের দুই-তৃতীয়াংশ অভ্যন্তরীণ জুটমিলসমূহে ব্যবহূত হচ্ছে। অবশিষ্ট হতে প্রায় ১২-২০ লাখ বেল কাঁচা পাট বিদেশে সরাসরি রপ্তানি করা হয়।
উল্লেখ্য, বার বার বিদেশি কাঁচা পাট রপ্তানি বন্ধ করার ফলে রপ্তানিকারকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে ব্যাংক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়েন। অন্যদিকে চক্রবৃদ্ধিহারে ব্যাংকের চড়া সুদ প্রদান, আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন সময় অর্থনৈতিক মন্দা থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা নান বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। শতভাগ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেও কোনোদিনও রপ্তানি প্রণোদনা দেওয়া হয়নি। তাই কাঁচা পাট খাতকে গতিশীল করতে আর্থিক প্রণোদনা ও বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়েছে।