এ যেন অচেনা এক রাজধানী। চিরচেনা সেই সড়কে নেই যানজট, নেই যানবাহনের শব্দ কিংবা হর্ন। একেবারে সুনসান নীরবতা, মানুষের উপস্থিতিও কম। অতি জরুরি কাজ ছাড়া বের হয়নি কেউ। যারা বের হয়েছিল, তারাও দ্রুত কাজ শেষ করে ঘরে ফিরেছে। সকালের দিকে মাঝেমধ্যে দেখা মেলে দু-একটি মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা। তবে সড়কে গতকাল ছিল সিএনজি-চালিত অটোরিকশা আর রিকশার ব্যাপক উপস্থিতি। সড়কে গণপরিবহন না থাকায় বেশ দাপট নিয়েই মহড়া দিতে দেখা চায় রিকশা, অটোরিকশা ও পাঠাও বাইককে। গতকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, সাইন্সল্যাব, আজিমপুর, কাঁটাবনসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কেবল রিকশা আর সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখা যায়।
কথা হয় অটোরিকশাচালক মেরাজ মিয়ার সঙ্গে। শ্যামলী থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত ভাড়া চান ৫৫০ টাকা। বললেন, সকাল থেকে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছি, কোনো প্যাসেঞ্জার নেই। অনেক রিকশাকেও সড়কে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারাও বলেন, প্যাসেঞ্জার নেই। রিকশাওয়ালা আজিবর বলেন, ‘সকাল থাকে বিকাল পর্যন্ত, এক বেলা খাবারের টাকাও হয়নি। যাত্রী নাই। দূরের কোনো খ্যাপ নাই, যা আছে সব কাছাকাছি। ৩০-৪০ টাকার খ্যাপ। ভাবছিলাম বিকালের দিকে যাত্রী বাড়তে পারে। কিন্তু এখন দেখি বিকালেও যাত্রী নাই।’
তবে বিকালে কিছু পাঠাও বাইক চলতে দেখা যায়। আনোয়ার হোসেন নামের একজন পাঠাওচালক বলেন, ‘সাধে কি আর সড়কে বাইর হইছি। জানি ভাড়া পাব না, তা-ও বের হইছি। কারণ আমার রোজগার না হলে বিপদ আছে। তিনি বলেন, ঘরে ছোট দুই সন্তান আছে, স্ত্রী আছে, রোজগার না হলে খাওয়া মুসকিল।’ তিনি বলেন, ‘সকালে মিরপুর থেকে একজন যাত্রী নিয়ে মতিঝিলে নামিয়ে দিয়েছি। আর কোনো যাত্রী পাইনি।’ এদিকে সকাল থেকে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু দোকান খুলতে দেখা গেছে। মার্কেট খোলা থাকলেও জনসমাগম ছিল অন্যদিনের তুলনায় অনেক কম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘রাস্তাঘাটে বের হওয়া নিরাপদ নয়। সেজন্যই শ্রমিক-কর্মচারীদের আসতে নিষেধ করেছি। পুলিশের তল্লাশির পর যদি কাউকে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে যায়, তাহলে সেই ঝামেলা আবার আমাদেরই পোহাতে হবে। সেজন্য আমি নিজেই এসে দোকান খোলা রেখেছি। কিছুক্ষণ পর চলে যাব। মার্কেটে লোকজনের উপস্থিতি নেই। সবার মধ্যেই অল্পস্বল্প আতঙ্ক কাজ করছে। দোকান খোলা রেখেও তো লাভ নেই, ক্রেতা নেই মার্কেটে।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকানের কর্মচারীরা অনেকে দোকানেই রাত্রি যাপন করবেন। অনেকে সকালে দূর-দূরান্ত থেকে হেঁটে ও রিকশায় এসেছেন বলে জানান। ফলে দোকান খুলতে দেরি হয়েছে।