নেইমার ঘরের শত্রু বিভীষণ

বর্তমানে নেইমারই ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় তারকা। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলিয়ানদের কাছে ‘ঘরের শত্রু বিভীষণও!’ না, সবার চোখে নন, নেইমার ‘ঘরের শত্রু বিভীষণ’ ব্রাজিলের ছোট্ট একটা অংশের মানুষের কাছে। কিন্তু ঘটনা হলো নেইমারের শত্রু পক্ষের মধ্যে দেশটির বর্তমান শাসক গোষ্ঠীও আছেন! দেশটিতে বর্তমানে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে বামপন্থি গোষ্ঠী। নেইমারের সখ্যতাটা ডানপন্থি রাজনীতিবিদদের সঙ্গে।  ব্রাজিলের ফুটবলের সঙ্গে রাজনীতি মিশে যাওয়ার ইতিহাসটা অনেক পুরোনো। রাজনীতির সেই টানাপোড়েনে ব্রাজিলের একটা অংশ নাকি জাতীয় ফুটবল দলকে নিজেদের দলই মনে করেন না! এমনকি ব্রাজিলের হলুদ জার্সিও গায়ে পড়েন না। কাতার বিশ্বকাপেও ব্রাজিলিয়ানদের একটা অংশ ব্রাজিলের হলুদ জার্সি গায়ে তোলেননি। দলকে সমর্থনও করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, এমন হয়েছে হয়তো নেইমারের কারণেই। নেইমার যে বিশ্বকাপের কিছু দিন আগে ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জেয়ার বলসোনারোর হয়ে মুখ খুলেছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্টের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে আমার মূল্যবোধের মিল রয়েছে।’ এই স্ট্যাটাসের পরই রাতারাতি বামপন্থিদের কাছে নেইমার খলনায়ক বনে যান। মজার ব্যাপার হলো, রাজনীতি নিয়ে নেইমারদের দলেই মতের ভিন্নতা রয়েছে।

রিচার্লিসন যেমন বামপন্থি রাজনীতির সমর্থক। তবে রাজনৈতিক দর্শনে ভিন্নতা থাকলেও দলের মধ্যে নেইমার-রিচার্লিসনদের কখনো তার প্রভাব পড়েছে বলে শোনা যায়নি। আরো একটি মজার তথ্য হলো, বিরোধী রাজনীতির প্রভাবে জাতীয় দলের জার্সি পরা না পরার দ্বন্দ্বটা ব্রাজিলে সেই ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ থেকেই। সেবারও দেশের একটা অংশ দলের বিরোধিতা করে জার্সি পরা থেকে বিরত থাকেন। ইতিহাস বলছে, ব্রাজিলে যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তারাই জাতীয় দলকে নিজেদের বানিয়ে ফেলেন! আর বিরোধীরা করেন বিরোধিতা!