বিজয়ের ঊষালগ্নে পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের নীলনকশা বাস্তবায়ন ও বাঙালি জাতিসত্তার ইতিহাস মুছে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্রে তৎকালীন সাম্প্র্রদায়িকতাবাদী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দালাল জামায়াতে ইসলাম ও তাদের সহযোগী ইসলামী ছাত্র সংঘের নেতৃত্বে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, ডাক্তার, বুদ্ধিজীবীদের নামের তালিকা তৈরি করে নৃশংসভাবে নির্যাতন চালিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করা হয়। তারা মনে করেছিল বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্তাকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়া যাবে। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা তাদের ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তার মধ্যদিয়ে স্বৈরাচার পাকিস্তান ও তাদের দালালদের পরাজিত করে পৃথিবীর ইতিহাসে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করতে সক্ষম হয়। গতকাল সোমবার বিকালে ৫১তম শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. অসিত বরণ রায় বলেন, ‘নির্বাচন নির্বাচন খেলায় ধর্মান্ধদের সঙ্গে আপস করে ক্ষমতার পালাবদলে জাতীয় অর্জন ও জাতিসত্তা এখন সংকুচিত। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মান্ধ শক্তি তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে এখন দেশবিরোধী কর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এদের দ্রুত চিহ্নিত করে সাম্প্রদায়িকতার মূল উৎপাটন করতে হবে।’
সংগঠনের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. সেলু বাসিত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী যে দলই ক্ষমতাসীন হয়েছে তারাই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে তোষণ করে সমাজে, রাষ্ট্রে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করেছে। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশে জনজীবনের অস্থিরতা সামাজিক অনাচার, দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাহীনতার মতো ঘটনাবলী উপেক্ষা করে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া ও টিকে থাকার লড়াইয়ের মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী ও তাদের দোসরদের এখনো তোষামোদ করার প্রতিযোগিতা চলছে। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় জাগরণ গড়ে তুলতে হবে।’
সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে জনগণ সব ক্ষমতার মালিক নিশ্চিত করা থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর এখন ক্ষমতায় টিকে থাকা ও যাওয়ার নিয়ামক শক্তি হলো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, নির্বাচন কেন্দ্রীক আন্দোলন-সংগ্রামের নামে সবসময়ই শহিদ বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী তাদের দোসরদের আড়াল করা যেন জাতির ললাটে প্রলেপযুক্ত করা হয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ধারায় বিবেকবান মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনায় বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা গেলেই শহিদ বুদ্ধিজীবী ও ৩০ লাখ শহিদের ত্যাগের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে।’