ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদনের ফাইল আটকে থাকার কারণে খুলনার শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জটিলতা এড়াতে জমি অধিগ্রহণের কাজটি দ্রুত শেষ করা জরুরি। না হলে জমির মূল্য বৃদ্ধিসহ অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনাসহ সার্বিক কাজ বাধাগ্রস্ত হবে।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল খুলনায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনা সফরকালে বিষয়টি তার কাছে উপস্থাপন করা হয়। ২০১৯ সালে খুলনা জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একটি পত্র প্রেরণ করে। চিঠিতে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির জন্য ১০০ একর জমির সংস্থানের বিষয়টিও জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর খুলনায় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সম্মতি দেন। ২০২০ সালের ১৩ জুলাই মন্ত্রিসভায় ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, খুলনা-২০২০’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন লাভ করে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিলটি জাতীয় সংসদে পাশ ও ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশ হয়। একই বছরের ২৯ এপ্রিল শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে। তিনি গত ৩ মে উপাচার্য পদে যোগ দেন।
মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানাসংলগ্ন এলাকার ১০০ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অধিগ্রহণ করা জমিটির পরিমাণ কমিয়ে ৭০ একর নির্ধারণ করেন। পরে ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ভূমি অধিগ্রহণ অনুমোদন বিষয়ে দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে ফাইল ফেরত পাঠায়। কিন্তু গত দেড় বছরেও ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন মেলেনি। প্রাথমিকভাবে ভূমি অধিগ্রহণের ব্যয় নিরূপণ করা হয়েছে ৬১২ কোটি টাকা। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রস্তাবিত ভূমির মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়টি খুলনা বিভাগের সরকারি-বেসরকারি ৯টি মেডিক্যাল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, টেকনোলজিসগুলো অধিভুক্ত করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রথম থেকে ৯৬০ শয্যা ও ৪৮টি ডিপার্টমেন্ট চালু করা যাবে। ভবিষ্যতে এ শয্যা সংখ্যা ১ হাজার ৯২০টি ও ডিপার্টমেন্টের সংখ্যা ৬০টির বেশি বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণে অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় অবকাঠামো উন্নয়নসহ সার্বিক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জমির মূল্যও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ে বারবার বিষয়টি নিয়ে তাগিদ দিয়ে আসছি। মন্ত্রণালয়ের সাবেক ও বর্তমান সচিব প্রস্তাবিত স্থান দেখেছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনা সফরকালেও প্রস্তাবিত স্থানটি দেখে গেছেন। আশা করছি দ্রুত এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে।’
উপাচার্য আরো বলেন, ‘জটিলতা এড়াতে জমি অধিগ্রহণের কাজটি দ্রুত শেষ করা জরুরি। না হলে জমির মূল্যবৃদ্ধিসহ অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনাসহ সার্বিক কাজ বাধাগ্রস্ত হবে।’
শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প প্রধান ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, আমরা ১০০ একর জমি চেয়েছিলাম। কিন্তু এক মাস আগে ইনফর্মেশন ছিল ৫০ একর জমিতে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। তবে, একটি বিষয়ে জটিলতা থাকবে, সেটা হচ্ছে ভবিষ্যতে আবার নতুন করে ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। নতুন করে নকশা করতে হবে। এজন্য আমরা একটু বাধাগ্রস্ত হচ্ছি।