মাঝে মধ্যে অ্যাশেজ সিরিজে দেখা মিলতো এটাকিং ব্যাটিংয়ের। সেটিও যখন প্রতিপক্ষ বোলাররা চেপে ধরতো ব্যাটারদের। ব্যাটিংয়ে ধস নামলে অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ড প্রতি আক্রমণে বোলারকে বিভ্রান্ত করতে চাইতো। চেষ্টা করতো নিজের দলের রানকে বাড়িয়ে নিতে। ভারত-পাকিস্তানের দৌরাত্ম্যে কালেভদ্রে লাল বলে দেখা মিলতো সে আক্রমণাত্মক মেজাজের ব্যাটিং। এছাড়া টেস্ট খেলা মানেই এতদিন প্রথাগতভাবে দেখেশুনে বাজে বলে রান নেওয়াকেই বুঝতো ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে চলতি পাকিস্তান সফরে ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ড টেস্ট খেলার ধরনে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তারা প্রথম টেস্টের (রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট) প্রথম দিনেই ৭৫ ওভার খেলে স্কোরবোর্ডে জমা করে ফেলে ৪ উইকেটে ৫০৬ রান। টি-২০’র যুগে রান তোলার গতি আগের চেয়ে বেশি হবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে টেস্টে ওভার প্রতি প্রায় ৭ রান! অবিশ্বাস্য এ রান রেট অন্য দলগুলোকেও ভাবতে বাধ্য করবে টেস্ট খেলার ধরনে পরিবর্তন আনতে। নয়তো পিছিয়ে পড়তে হবে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট বিশ্বে। তাই বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ম্যাচকে সামনে রেখে এ বিষয়টিই আসছে বার বার। তবে কি ইংলিশদের দেখিয়ে দেওয়া পথে ভারতও এরকম আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দর্শনের দিকেই হাঁটবে। সেটি করলে প্রথম দিনেই প্রতিপক্ষকে (বাংলাদেশ) ছিটকে দেওয়া যাবে প্রতিযোগিতা থেকে। ম্যাচের আগে ভারতের অধিনায়ক লোকেশ রাহুল সংবাদ সম্মেলনে অবশ্য তেমনটিই জানিয়েছিলেন। আক্রমণাত্মক ক্রিকেটই তাদের লক্ষ্য। ‘এটা নিশ্চিত; আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলব।’
এরই মধ্যে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের ড্রেস রিহার্সেল ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে করেও ফেলেছে ভারত। ৪ দিন আগে এই চট্টগ্রামে ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে দেখতে হয়েছে ভারতীয় ব্যাটারদের রুদ্র মূর্তি। আর তাতে ঝলসাতে হয়েছে বাংলাদেশের বোলারদের। টেস্টেও তাদের সে সামর্থ্য আছে। কোহলি, লোকেশ রাহুল, পুজারাদের সে সামর্থ্য আছে। আর ভারত যদি সত্যিই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য এ টেস্ট হতে যাচ্ছে কঠিন এক পরীক্ষা। একে তো প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না ছন্দে থাকা পেস বোলার তাসকিন। তার উপর অসস্তি আছে সাকিবকে নিয়েও। অবশ্য ম্যাচের আগের দিন হাসপাতালে পরীক্ষা করে সাকিবের সুস্থতার সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। তবুও উৎকণ্ঠা যাচ্ছে না ক্যাপ্টেনকে নিয়ে।