ডাগআউটে দুই ফরাসির লড়াই

গোটা আফ্রিকা এখন মরক্কোর নামে জয়ধ্বনি করছে। শুধু কি আফ্রিকা, আরববিশ্বকেও গর্বিত করেছে মরক্কো। গর্বিত করেছে মুসলিম দেশগুলোকেও। এর আগে আফ্রিকার দেশগুলোর বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল কোয়ার্টার ফাইনাল অবধি। এবার আটলাসের সিংহরা সেই বাধা টপকাতে পেরেছেন। তাদের লক্ষ্য এখন ফাইনাল। আর এই ফাইনালে যেতেই টপকাতে হবে গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর সব থেকে মজাদার ব্যাপার হচ্ছে, মরক্কান কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই এবং ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম দুই জনেরই জন্ম ফ্রান্সে। লড়াইটা তাই শুধু খেলোয়াড়দের নয়, ফরাসি দুই কোচেরও।

এদিকে মরক্কোর এমন সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছেন দলটির কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই। কাতার বিশ্বকাপ শুরুর তিন মাস পূর্বে বসনিয়ার কোচ ভাহিদ হালিলহজিচকে ছাঁটাই করে মরক্কো। চেলসি তারকা হাকিম জিয়েচ এবং বায়ার্ন মিউনিখের ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউয়ির সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে চাকরি হারান কোচ। বসনিয়ার কোচ চলে যাওয়ার পর আবার দলে ফিরেন জিয়েচ এবং মাজরাউয়ি। মরক্কোর দায়িত্ব কাঁধে নেন আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী কোচ রেগরাগুই। দায়িত্ব নিয়েই তিনি দলটিকে আমূল বদলে ফেলেন। তার অধীনে স্বল্পসময় প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ে পেয়েছে মরক্কো। তার পরেও আফ্রিকার দলটি বিশ্বকাপে যা করেছে সেটি অবিশ্বাস্য!  মরক্কোর খেলোয়াড়রা রেগরাগুইকে কতটা পছন্দ করেন, সেটি দলটির জয়ের পর বোঝা গিয়েছে। তিনি এবং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন যে, বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের পুরো পরিবার সঙ্গে থাকতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত যে দারুণ কাজে দিয়েছে, সেটি প্রতিটা ম্যাচ জয়ের পর দেখা গিয়েছে মরক্কোর খেলোয়াড়রা তাদের মা-বাবার সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন। এটি তাদের মা-বাবা, দেশের হয়ে আরো ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ করছে। এমনকি কোচ রেগুরাগুইও তার বৃদ্ধ মাকে নিয়ে গিয়েছেন কাতারে।