ইটের গুঁড়ার লাল ধুলায় আচ্ছন্ন কেন্দুয়া-চিরাং সড়ক 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া-তাড়াইল সড়কের কেন্দুয়া থেকে চিরাং বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার নির্মাণাধীন সড়কের লাল ধুলায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এ সড়কে যাতায়াতকারীরা অভিযোগ করে বলেন, এই একটিমাত্র সড়ক দিয়ে তাদের প্রতিদিন চিরাং বাজার থেকে কেন্দুয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। নির্মাণাধীন এই সড়কটির কাজ দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না করায় ইটের খোয়াগুলো গুঁড়ো হয়ে এখন লাল ধুলায় পরিণত হয়েছে। ধুলায় সড়কের পাশে থাকা জমির ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিদিন লাল ধুলার কারণে বাড়িতে রান্না করা খাবার পর্যন্ত নষ্ট হচ্ছে। 

সরেজমিনে গেলে সড়কের পাশের দোকানি শহীদুল হকসহ স্থানীয় কয়েক জন অভিযোগ করে বলেন, বছরখানেক আগে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলে রোলার করে। প্রায় তিন মাস আগে থেকে কাজ বন্ধ দেন ঠিকাদার। আমরা এখন চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। তারা আরো বলেন, ব্যস্ততম এই সড়কটিতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক, ট্রলি, যাত্রীবাহী সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। ইটের গুঁড়োর লাল ধুলায় আমাদের দোকানপাট বন্ধ রেখে বেকার হয়ে পড়েছি।

সড়কের পাশের চকবাট্টা গ্রামের রফিক, সবুজ ও শহীদুল বলেন, আমাদের এখন বোরকার মতো বাড়তি কাপড় শরীরে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বাড়িঘরেও থাকতে পারছি না। স্থানীয় কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, সড়কের পাশের সব জমিতে লাল ধুলার স্তর পড়ে যাচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আবুল কাশেম বলেন, লাল ধুলার কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা এ সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। ধুলাবালিতে তাদের পোশাকসহ স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক খোকন মিয়া, সিএনজি চালক ওয়াহিদুল আলাল জানান, চিরাং বাজার থেকে কেন্দুয়া পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়কে এলে মানুষের চেহারা ধুলার কারণে বদলে যায়। প্রতিদিন দু-তিনবার কাপড় বদলাতে হয়। এছাড়া আমাদের গাড়িরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোজাম্মেল হক জানান, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কটির কাজ পান। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকারও বেশি। কাজটি চলতি বছরের নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক মাস ধরে ঠিকাদার কাজ বন্ধ রেখেছেন। তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার লোকসান হচ্ছে জানিয়ে কাজ করবেন না বলে জানান। এখন টেন্ডার বাতিল করে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি করতে হলে অনেক সময়ের ব্যাপার।