ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক

ছন বনে ছেয়ে গেছে হারাচ্ছে সৌন্দর্য

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

সঠিক সময়ে পরিচর্যা না থাকায় পদ্মা সেতুর ছয় লেনের অ্যাপ্রোচ সড়কের আইল্যান্ড ও স্লোপ ছন বনে ছেয়ে গেছে, ফলে হারাচ্ছে দেখার সৌন্দর্য। ২০১৭ সালে পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ বনবিভাগের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর জাজিরা অংশে থেকে শিবচরে পাঁচ্চরের গোল চত্বর পর্যন্ত, জাজিরা সিমান্তে থেকে শিবচর অংশে বনজ, ফলদ, ভেষজ শোভাবর্ধনকারী প্রায় ত্রিশ হাজার চারা লাগানো হয়েছে। গাছগুলো বড় হতে শুরু করেছে। ফুল ও ফুটছে অনেক গাছে। প্রতিদিন বিকাল হলেই যেই সড়কের পাশে দর্শনার্থীদের সেলফি তোলার ভিড় জমে উঠত। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের মুগ্ধ হতো দর্শনার্থীরা। সঠিক সময়ে পরিচর্যা না থাকায়। অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে দেখার সৌন্দার্য।

পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক দেখতে আসা নুরে আলম বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়কে যে ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়েছে তা দেখলে মন ভরে যায়। তবে কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে পরিচর্যা না করায় ছন ক্ষেতে রূপান্তরিত হয়েছে। রাস্তার দুই পাশ এখন শেয়াল বাসের যোগ্য। আজ আমি আমার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আসছিলাম বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অ্যাপ্রোচ সড়ক ঘুরে দেখাতে। কিন্তু কিছু দিন আগেও যে সড়কের পাশে ছবি তোলার ভিড় থাকত, সেখানে দাঁড়াবার অবস্থাও নেই। পুরা রাস্তার দুই পাশ ও মাঝ খানে ছনে ভরে গেছে।

উপজেলা বন অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ বনবিভাগের মাধ্যমে সামাজিক এ বনায়ন করছে। এতে শিবচরের অংশে পদ্মা সেতু অ্যাপ্রোচ সড়কে শিবচরের পাঁচ্চর গোলচত্বর হতে জাজিরারা সীমানা পর্যন্ত বনজ ৩১ হাজার ২০০, ফলদ ২৯০০, ভেষজ ১৯০০ ও শোভাবর্ধনকারী ১৯০০ চারা রোপণ করা হয় এবং পদ্মা সেতুর নাওডোবা টোল ঘর  থেকে জাজিরা সীমানা পর্যন্ত বনজ ২৩ হাজার ২০০, ফলদ ১৯০০, ভেষজ ১৪৫০ ও শোভাবর্ধনকারী ১৪৫০টি চারা রোপণ করা হয়। মহাসড়কের মাঝ বরাবর আইল্যান্ডজুড়ে লাগানো হয়েছে মশুন্ডা, বোতল ব্রাশ, পাতাবাহার, সোনালু বন্দুন, এরিকা পাম্প, হুইপিং দেবদারুসহ হরেক রকমের ফুলগাছ। আর মহাসড়কের ঢাল ও সমতল ভূমিতে লাগানো হয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, বকুল, কাঞ্চন, সোনালু, মহুয়া, কৃষ্ণচূড়া, বহেরা, অর্জুন, শিমুলসহ বাহারি, ফলদ ও ওষুধি গাছ লাগানো হয়।

শিবচর উপজেলা বন কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, মূলত পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে ২০১৭ সালে বন বিভাগের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর ছয় লেনের অ্যাপ্রোচ সড়কের আইল্যান্ড ও স্লোপে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৩০ হাজারের মতো গাছের চারা রোপণ করা হয়। আমার সেতু প্রকল্পের সঙ্গে গত মিটিংয়ে পরিচর্যা বা ছন বন কাটার বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা প্রস্তাব করেছিলাম লেবার দিয়ে ছন কাটার বিষয়ে। তারা বলেছে বাগানের পাহারাদার কাজে ওয়ার্কার আছে ২০ জন।