চীনের ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং জাহাজ 'ইয়ুয়ান ওয়াং-৫' এই অঞ্চলে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় কাটানোর পরে ভারত মহাসাগর থেকে প্রস্থান করেছে। প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার (১২ ডিসেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের সাহুল ব্যাংক এলাকায় 'ইয়ুয়ান ওয়াং-৫'-এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গুপ্তচর জাহাজটি দক্ষিণ চীন সাগরের হেনান দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। চীনের নৌঘাঁটিতে রয়েছে সাবমেরিন ও পারমাণবিক অস্ত্রের বহর।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বা ডিআরডিও) এই মাসে ওড়িশার উপকূলে দূরপাল্লার 'অগ্নি-৫' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে পারে। এর আগে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের গুপ্তচর জাহাজের গতিবিধিকে সন্দেহজনক বলে মনে করেছিল ভারত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রায় ২৩ হাজার টন ওজনের গুপ্তচর জাহাজ 'ইয়ুয়ান ওয়াং-৫' এ স্যাটেলাইট ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণের জন্য আধুনিক সেন্সর রয়েছে। উন্নত প্রযুক্তির এই নজরদারি জাহাজ ভারতের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ভারতের আপত্তিতে 'ইয়ুয়ান ওয়াং-৫' গত আগস্টে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরে পৌঁছেছিল। যে বিষয়ে নয়াদিল্লি সে সময় কলম্বোকে সতর্ক করেছিল। চীনের গুপ্তচর জাহাজটি ৭৫০ কিলোমিটারের মধ্যে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, জাহাজটি শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে সেই সময়ে তামিলনাড়ুর কালপাক্কাম, কুদানকুলাম সহ বিভিন্ন পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্রে গুপ্তচরবৃত্তি করেছিল।