ভোগান্তিতে নীলসাগরের যাত্রী
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
ঈদের পর থেকে ঢাকা-চিলাহাটি রেলপথে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেসের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। রাতের ট্রেন সকালে এবং সন্ধ্যার ট্রেন ভোর বেলায় যাতায়াত করছে। এতে এই রেলপথে চলাচলকারী ট্রেন যাত্রী সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।
চিলাহাটি স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস সন্ধ্যা ৬টায় চিলাহাটিতে পৌঁছানোর সময় থাকলেও তা নির্দিষ্ট সময়ের ১০ ঘণ্টা পর রবিবার ভোর ৬টায় পৌঁছে।
ফলে এই ট্রেনের চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী ও সৈয়দপুর স্টেশনে শনিবার রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকাগামী যাত্রীরা রবিবার সকাল পর্যন্ত ট্রেনের অপেক্ষায় বসে থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা যাত্রীরা প্লাটফর্মে অথবা আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করে।
সৈয়দপুর স্টেশন মাস্টার শওকত আলী জানান, রাত ১০টা ২৭ মিনিটে সৈয়দপুর স্টেশন থেকে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময় থাকলেও ট্রেনটি ১০ ঘণ্টা বিলম্বে রবিবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে এ স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
রেলের পশ্চিমাঞ্চলের চিফ সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার অসীম কুমার তালুকদার বলেন, ঢাকা-চিলাহাটি রেলপথের অনেক রেলস্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুটি ট্রেনের ক্রসিং দিতে বিলম্ব হচ্ছে ট্রেনের সূচি। তা ছাড়া রেলপথের এই রুটে নীলসাগর ট্রেন একজোড়া থাকলে হয়তো এ সমস্যা হতো না।
জামালপুরে টিকিট বিড়ম্বনায় রেলযাত্রীরা!
জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুর থেকে কর্মস্থলমুখী রেল যাত্রীরা টিকেট প্রাপ্তির বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করে শত শত নারী-পুরুষ রেলযাত্রী নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যেতে এখনো চরম বিড়ম্বনা আর দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঈদের আমেজ শেষ হয়েছে বেশ কিছু দিন আগেই। এখনও প্রতিদিনই জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্মে শত শত নারী-পুরুষ ঢাকায় ফেরার জন্য ভীড় করছে। জামালপুর থেকে ঢাকার সড়কপথ ভালো না হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ বাধ্য হয়ে ট্রেনেই চলাচল করে থাকেন। একদিকে ট্রেনের টিকেট না পাওয়া আর আন্যদিকে প্রচন্ড ভীড়ে যাত্রীরা এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন চারটি আন্তঃনগর ও দুইটি বেসরকারী ট্রেন চলাচল করে থাকে।
জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শেখ উজ্জ্বল মাহমুদ বলেন, ‘অন লাইনে অর্ধেক ট্রেনের টিকেট চলে যাওয়ায় কাউন্টারে টিকেটের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেছে। বিশেষ দিনগুলোতে তাই যাত্রীরা কাউন্টারে টিকেট না পেয়ে আমাদের শরণাপন্ন হচ্ছে। কিন্তু টিকেট ব্লক সিস্টেম না থাকায় আমরা তাদের কোনভাবেই টিকেট দিয়ে সহযোগিতা করতে পারছি না।’