অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার: ৪ অপহরণকারী গ্রেফতার 

রাজশাহী মহানগরীর সিটিহাট এলাকা থেকে অপহৃত দুই শিশুকে উদ্ধার ও চার অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় অপরহণে ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল ও শিশুদের খেলনাসহ তাদের বহনকারী একটি শালো ইঞ্জিন চালিত ভটভটি বা নসিমন উদ্ধার করা হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
তিনি জানান, দুই শিশুকে অপহরণের অভিযোগে নগরীর শাহ্ মখদুম থানার খিরশিন টিকরদাঁড়ার শাহজাহান আলীর ছেলে রাজু ইসলাম (২৬), মোজদার আলীর ছেলে সজিবুল ইসলাম (২৬), সাইদুল ইসলামের ছেলে শাকিল (২৩) ও একই এলাকার ফকিরপাড়ার জাক্কার আলীর ছেলে মোখলেছুর রহমান (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার মনিরুল ইসলামের খেলনার দোকান থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে জসিম (১৩) ও মারুফ (১২) নামের দুই শিশু রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতো। বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুই শিশু খেলনা নিয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানার মুশরইল মানিক শাহ’র মাজার এলাকার ওরসের মেলায় খেলনা বিক্রি করে শ্যালো ইঞ্জিন চালিত ভটভটিতে করে বাড়ি ফিরছিল। দুপুর ২টায় তারা শাহ্ মখদুম থানার উত্তর নওদাপাড়া সিটিহাট মোড়ে পৌঁছালে চারটি মোটরসাইকেলে ৭-৮ জন অপহরণকারী পথরোধ করে জোরপূর্বক ভটভটিসহ তাদের অপহরণ করে। এরপর শিশু জসিমের মোবাইল ফোন থেকে দোকান মালিক মনিরুলের মোবাইলে ফোন করে শিশুদের অপহরণের কথা জানায়। অপহরণকারীরা মুক্তিপণ হিসেবে দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা নিয়ে সিটিহাট মোড়ে আসতে বলে। অপহরণকারীদের কথা মতো মনিরুল ইসলাম সিটিহাট মোড়ে এসে শিশু জসিমের মোবাইলে ফোন করলে অপহরণকারীরা মনিরুলকে খড়খড়ি যেতে বলে। মনিরুল খড়খড়িতে গেলে আবার তাকে রামচন্দ্রপুরে যেতে বলে। এইভাবে তারা বারবার তাদের স্থান পরিবর্তন করতে থাকে। মনিরুল ইসলামের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাহ্ মখদুম থানায় একটি মামলা হয়। এরপর শাহ্ মখদুম থানার ওসি মেহেদী হাসান ও এসআই আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ শিশু দুইটিকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। 

বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টায় শাহ্ মখদুম থানা পুলিশের টিম আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় আসামিদের অবস্থান সনাক্ত এবং পবা থানার ভালাম (ভবানীপুর) গ্রামের মতি ভিলায় অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে ৪ অপহরণকারীকে গ্রেফতার এবং শিশু জসিম ও মারুফকে উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে অপরহণের কাজে ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল ও শিশুদের খেলনাসহ বহনকারী ভটভটি উদ্ধার করা হয়। 

মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।