ক্লাব ফুটবলে মেসিময় অনেক মুহূর্ত দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মেসি নাকি সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারে না-এমন অভিযোগ ছিল অনেকের; কিন্তু কাতার বিশ্বকাপে সমালোচকদের মুখে পট্টি পরিয়ে দিয়েছে মেসি। কাতার বিশ্বকাপে পুরোটাই মেসিময় যাচ্ছে। গোল করছেন নিজে, সতীর্থদের দিয়েও গোল করিয়ে বর্তমানে ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য অপেক্ষা করছেন।
কাতার বিশ্বকাপই মেসির খেলা শেষ বিশ্বকাপ-তা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন এ খুদে জাদুকর। মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারলে আর্জেন্টাইন দলের ৩৬ বছরের ট্রফির খরা কাটবে। সবশেষ আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার হাত দিয়ে ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ছিল। এরপর আরো দুইটি বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেও জয় পায়নি দলটি। এদিকে মেসি ফাইনালে নামলেই একগাদা নতুন রেকর্ডের মালিক হয়ে যাবেন। তার সামনে সুযোগ সর্বোচ্চ ২০ গোলে অবদান রাখার। এখন ১১ গোল ও আট অ্যাসিস্ট আছে মেসির। তার এবারের যাত্রাকে তুলনা করা হচ্ছে স্বদেশি কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সঙ্গে।
এ নিয়ে জাতীয় দলে মেসির সাবেক সতীর্থ হাভিয়ের আদেলমার জানেত্তি বলেছেন, ‘মেসি দুর্দান্ত ফুটবলার। সে মারাদোনার সঙ্গে একই উচ্চতায় আছে। আমার মনে হয় অনেক মানুষ মেসিকে জিততে দেখতে চায়, কারণ সে বিশ্বকে যা দেখিয়েছে আর ফুটবলকে মেসি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছে।’
যদিও সহজ হবে না আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়। ১৯৬২ সালের পর প্রথম দল হিসেবে ফ্রান্সের সামনে হাতছানি টানা দুই বিশ্বকাপ জেতার। গতবারের চ্যাম্পিয়নরা এবারও খেলেছে ফেভারিটদের মতো করেই। জানেত্তি চিন্তায় আছেন ফ্রান্সের বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়েই।
জানেত্তি বলেছেন, ‘কাতারের সেরা দুটি দল বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠেছে। আমি আশা করি আমাদের দেশে বিশ্বকাপ নিয়ে আসবে লিওরা। তবে আমি এমবাপ্পেকে নিয়ে চিন্তিত। গ্রিজম্যান, জিরুদ, রাবিওট যদি খেলে; তারা সবাই মানসম্পন্ন ফুটবলার। তাদের দারুণ একজন গোলরক্ষকও আছে। এই দলটা একই কোচের অধীনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। খুবই পরিপূর্ণ ও গোছানো দল, যেকোনো কিছুই হতে পারে।’