বিজয়ের মাসে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ৮ দিনের জন্য শুরু হয়েছে বিজয় গাঁথা গল্পের ছবি প্রদর্শনী। বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধকালের বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে দুর্লভ কিছু ছবি নিয়ে 'উইটনেসিং হিস্ট্রি ইন দ্য মেকিং: ফটোগ্রাফস বাই অ্যান ডি হেনিং' শীর্ষক প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) যৌথ আয়োজনে চলছে এই প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী চলবে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলছে এটি। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
মুক্তিযুদ্ধকালে ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আর যুদ্ধের পর স্বাধীনতার ডাক দেওয়া বঙ্গবন্ধুকে দেখতে আবারও ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে আসেন ফরাসি ফটোগ্রাফার অ্যান ডি হেনিং। মূলত সাদাকালো ছবি তুললেও স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের প্রথম সেই সম্মেলনে এসে লাল-নীল আলোর ছটায় শখ করেই কিছু রঙিন ছবি তোলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালে এবং তারপর ১৯৭২ সালে তোলা তার ছবিগুলো নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে এই প্রদর্শনী।
এখানে স্থান পেয়েছে তার ৩৫টি দুর্লভ ছবি। এর মধ্যে ১৬টি মুক্তিযুদ্ধকালের যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের জীবনকে তুলে ধরেছেন তিনি। এ ছাড়া রয়েছে আওয়ামী লীগের সেই সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ১১টি রঙিন ছবি। এছাড়া বাংলাদেশ নিয়ে তার আরও ৮টি ছবি স্থান পেয়েছে এই প্রদর্শনীতে।
এই ছবিগুলো তোলার ইতিহাসের কথা জানাতে গিয়ে অ্যান ডি হেনিং বলেন, ‘কলকাতা থেকে শুধুমাত্র এই ইভেন্টের ছবি তোলার জন্য আমি সে সময় ঢাকায় আসি। এবার অবশ্য এই প্রদর্শনীকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ২০ ডিসেম্বর সেখানে নিজেই উপস্থিত হয়ে তার তোলা এই দুর্লভ ছবিগুলো নিয়ে কথা বলবেন অ্যান ডি হেনিং। এর আগে ফ্রান্সে প্রদর্শনীতে তার এই ছবিগুলো প্রশংসা কুড়িয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের। ফোর্বস ম্যাগাজিনে এই প্রদর্শনীকে 'সো ইনটেন্স, সো ফ্রেজাইল' হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রদর্শনীটি ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছও ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
প্রদর্শনী নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র এবং সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বলেন, ‘উপমহাদেশের এমন একজন নেতা ছিলেন যিনি তার দেশকে প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক এবং সকলের সমান অধিকারের ভিত্তিতে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন। বাংলাদেশের সকলে তার এই দাবির পক্ষে একাত্মতা প্রকাশ করে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন-প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সিআরআই ট্রাস্টি এবং জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাদিয়া সামদানী। প্রদর্শনীর প্রথম দিন বেশ কিছু স্কুলের শিশুরাও এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সিআরআই ট্রাস্টি নসরুল হামিদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দুর্লভ রঙিন কিছু ছবি রয়েছে এখানে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এই বাংলাদেশ থেকে তার সকল চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের স্থপতিকে এ দেশের মানুষের মন থেকে মুছে ফেলা অসম্ভব। আর বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে থাকা সেই বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ কিছু ছবি আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন অ্যান ডি হেনিং। এজন্য তার প্রতি কৃতজ্ঞ আমরা।’