চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় দেশের প্রধান তেল স্থাপনা এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ সংক্রান্ত জটিলতা এখনো কাটেনি। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের প্রধান তেল ডিপোগুলো এখনো অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৮ সালে বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দুই বিঘা জমির ওপর ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ প্রদান করে। কিন্তু বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তাদের স্থাপনা সংলগ্ন এলাকায় জমি বরাদ্দ প্রদানের জন্য দাবি জানিয়ে আসছে। বিপিসি ২০১৫ সালে ফায়ার ব্রিগেডের জন্য জমি বরাদ্দের আবেদন করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিপূর্বে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও ইস্টার্ন রিফাইনারিকে যে জমি দেওয়া হয়েছে তা যথাযথ ব্যবহার হয়নি। বিশেষ করে ওই সকল তেল স্থাপনার ভেতরে বাংলো ও আবাসিক সুবিধা কাঙ্খিত নয়। ইতিমধ্যে দেওয়া প্রায় ৫০ একর জমি থেকে বাংলো ও আবাসিক সুবিধা স্থানান্তর করলে ফায়ার ব্রিগেড নির্মাণ সম্ভব।
২০১৭ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকেও জাহাজসহ নৌযান ও তেল স্থাপনার অগ্নিনির্বাপন ঝুঁকি নিরোধ ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন নির্মাণের জমি চেয়ে বন্দরের নিকট আবেদন করা হয়। এক পর্যায়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের সমঝোতার ভিত্তিতে বিমানবন্দর সড়কে বন্দর ২ বিঘা জমি প্রদান করে। কিন্তু বিপিসি জানায়, ওই ফায়ার স্টেশন অপেক্ষাকৃত দূরে হওয়ায় তেল স্থাপনাসমূহ সুরক্ষা পাওয়া দুরহ হবে। বিপিসির এই দাবির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গত মাসে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিপিসি ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের অনঢ় অবস্থার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে এর সমাধানের জন্য বৈঠক ডাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার তেল স্থাপনাসমূহ সংলগ্ন টিএসপি, ড্রাইডক ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন এবং বিপিসি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় টিএসপি’র নিয়ন্ত্রণাধীন থাকা কিছু জমি নিয়ে ফায়ার ব্রিগেড স্টেশন নির্মাণের জন্য সুপারিশ করা হয়। যদিও টিএসপি’র পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়। জানা যায়, পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন গুপ্তাখাল এলাকায় দেশের প্রধান জ্বালানি তেল স্থাপনা ও কয়েকটি বেসরকারি ভোজ্যতেল ডিপো রয়েছে। প্রতিটি তেল স্থাপনার যত্সামান্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও জ্বালানি ও ভোজ্যতেলের মত দাহ্য পদার্থের দুর্ঘটনা নিরোধের জন্য পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
ওই এলাকায় পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এশিয়াটিক স্ট্যান্ডার্ড অয়েল, ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ সরকারি ও বেসরকারি জ্বালানি এবং ভোজ্য তেলের মূল ডিপো রয়েছে। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানি ও ভোজ্যতেল ওই এলাকায় জাহাজ থেকে খালাস করে রাখা হয়। পরবর্তীতে নদী, সড়ক ও রেলপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়।