লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় এক মেয়ে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অটোরিকশা চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই জেলার রায়পুরে এক গৃহিণী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অপরদিকে মানিকগঞ্জের ঘিওরে বিদেশ ফেরত এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় বাসের চালক ও হেলপারকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল রবিবার মানিকগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি এবং রায়পুর সংবাদদাতার পাঠানো খবর—
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : উপজেলায় উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ের কুচিয়ামারায় এক গৃহিণী (৪৫) গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল সৈয়দ আহম্মেদ আলীর ছেলে বাচ্ছু মিয়া (২৬) ও আলাউদ্দিন মাঝির ছেলে মাসুদ আলম (২৩) নামে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়া জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে ওই নারীর ঘরে কৌশলে প্রবেশ করে চার যুবক পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। তার স্বামী ও ছেলে ঢাকায় থাকেন। বাচ্চু ও মাসুদ ধষর্ণের কথা স্বীকার করেছেন। অপর দুই জনকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আবদুল্যাহপুরে ১০ বছরের এক মেয়ে অটোরিকশা যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গতকাল চালক দুলাল হোসেনকে আটক করছে পুলিশ। দুলাল সদর উপজেলার রাজিবপুর এলাকার সফিক মিয়ার ছেলে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, লক্ষ্মীপুর শহর থেকে অটোরিকশায় ঐ শিশুটি বাসায় যাচ্ছিল। পথে একটি সুপারি বাগানে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে চালক দুলাল। এ সময় তার চিত্কারে লোকজন এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং চালক দুলালকে পুলিশে সোপর্দ করে।
মানিকগঞ্জ : ঘিওরে বিদেশ ফেরত এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় বাসের চালক ও হেলপারকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বেগম রওশন জাহান। গতকাল চালক নায়েব আলী ও হেলপার সোহাগকে আদালতে হাজির করে পুলিশ সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করে। উল্লেখ্য, ঐ নারী গত শুক্রবার জর্ডান থেকে ঢাকায় আসেন। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে এসে স্বপ্ন পরিবহনের একটি বাসে ঘিওরের উদ্দেশে রওনা দেন। অন্যান্য যাত্রীকে বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়ার পরে ঘিওরে পয়লা এলাকায় আসার পর ঐ নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে তারা। এ সময় ঐ নারী বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
নাজিরপুরে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ
পিরোজপুর অফিস জানায়, জেলার নাজিরপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। শনিবার রাতে উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পশ্চিম যুগিয়া গ্রামের তারা কান্ত রায়ের মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে পুলিশ গৌতম শিকারী (২০) নামে এক তরুণকে গতকাল রবিবার গ্রেফতার করেছে। গৌতম পশ্চিম যুগিয়া গ্রামের গৌর শিকারীর ছেলে। নাজিরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া জানান, ধর্ষক এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
জানা যায়, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে গৌতম শিকারী ও রবিন শিকারীর ছেলে রমেন শিকারী ওই ছাত্রীকে কৌশলে পার্শ্ববর্তী একটি মাছের ঘেরে নিয়ে যায়। সেখানে রমেন শিকারী ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। রাত ১২টার দিকে মেয়েটিকে ওই ঘের থেকে উদ্ধার করা হয়।