গ্যালারিতে প্রবেশ করতেই নজর কাড়ে বাম পাশের দেওয়ালে ঝোলানো একটি ক্যানভাস। সারিবদ্ধ নৌকায় ভিন্ন এক জীবনের প্রাচুর্য সেখানে। নদীর ধারের নৌকাগুলোই হয়ে উঠেছে একেকটি সংসার। সে সব সংসারে অবস্থান করছে নর-নারী থেকে শিশু। বেদে জীবনের খণ্ডচিত্র। ১৯৭০ সালে বেদে নৌকা শিরোনামের ছবিটি এঁকেছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
এই ছবি পেরিয়ে সামনে এগুতেই ধরা দেয় ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ শিরোনামের পটুয়া কামরুল হাসানের সেই বিখ্যাত চিত্রকর্ম। এস এম সুলতানের ক্যানভাসে উঠে এসেছে গ্রামীণ জীবন। সেখানে পেশিবহুল কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পার করছেন ব্যস্ত সময়। ঐ কর্মযজ্ঞ ঘিরে ধানের খেতে চরে বেড়াচ্ছে গবাদি পশু। বাংলাদেশের মাস্টার পেইন্টারসহ স্বনামধন্য শিল্পীদের ছবি দেখার সুযোগ করে দিয়েছে জাতীয় জাদুঘর। নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনালয়ে উপস্থাপিত হয়েছে ছবিগুলো। দেশের বরেণ্য ৪০ শিল্পীর চিত্রকর্ম নিয়ে চলছে বিশেষ প্রদর্শনী। দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে জাদুঘরে শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগে সংগ্রহশালায় থাকা চিত্রকর্মের সম্মিলন ঘটেছে এই প্রদর্শনীতে।
এই প্রদর্শনীর শিল্পীরা হলেন, আবুল কাশেম, জয়নুল আবেদিন, আনোয়ারুল হক, কামরুল হাসান, সফিউদ্দিন আহমেদ, এস এম সুলতান, হামিদুর রহমান, মোহাম্মাদ কিবরিয়া, মুর্তজা বশীর, আমিনুল ইসলাম, নভেরা আহমেদ, আব্দুর রাজ্জাক, কাইয়ুম চৌধুরী, রশিদ চৌধুরী, দেবদাস চক্রবর্তী, সৈয়দ জাহাঙ্গীর, নিতুন কুন্ডু, কাজী আব্দুল বাসেত, কালিদাস কর্মকার, সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ, সমরজিত্ রায় চৌধুরী, কাজী আনোয়ার হোসেন, মাহমুদুল হক, রেজাউল করিম, মোহাম্মাদ ইব্রাহীম, হাসি চক্রবর্তী, গোলাম ফারুক বেবুল, ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী, খালিদ মাহমুদ মিঠু, দীপা হক, মনসুর উল করিম প্রমুখ।
৯৩টি শিল্পকর্মের সম্ভারে সাজানো এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।