বিয়ের বাজার করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই জনকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার মোস্তফাপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নিশাদদি এলাকার মৃত মজিদ মোল্লার ছেলে জলিল মোল্লা (৬৫) ও তার ছেলে হেলাল মোল্লা (৪৫)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পেয়ারপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান লাভলু তালুকদার ও সাবেক চেয়ারম্যান মজিবর রহমানের সঙ্গে এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। সকালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কেনাকাটা করতে মোস্তফাপুর বাজারে যায় সাবেক চেয়ারম্যানের সমর্থক জলিল মোল্লা ও তার ছেলে হেলাল। পরে বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা বাবা ও ছেলের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় কুপিয়ে জখম করা হয় দুই জনকেই। জলিল ও তার ছেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে দুই জনকেই পাঠানো হয় রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে। 

Picsart_22-12-19_17-44-33-068

জলিল মোল্লার মেয়ের জামাই জামাল মোল্লা বলেন, আমরা বাজার করতে গেলে হঠাৎ করে চেয়ারম্যান লাভলু তালুকদারের লোকজন খোকন হাওলাদারের ছেলে রাশেদ হাওলাদার, ইদ্রিস চৌকিদারের ছেলে সাদ্দাম চৌকিদার, সৈয়দ আলী হাওলাদারের ছেলে নাজমুল হাওলাদার, সিরাজ চৌকিদারের ছেলে সাদ্দাম চৌকিদারসহ আরও বেশ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার শ্বশুর ও ভাইয়ের ওপর হামলায় চালায়। আমরা এই ঘটনায় প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।

জলিল মোল্লার ভাগ্নে আলিম বেপারী বলেন, আমার মামাকে আর মামাতো ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ওপর যারা এভাবে হামলা চালিয়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পেয়ারপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লাভলু তালুকদার বলেন, আমার বিষয়ে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। আমার জানা মতে, আমার কোনো সমর্থক তাদের ওপর হামলা চালায়নি।  

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাওলীন আফরোজ বলেন, দুই জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় এখানে নিয়ে আসা হয়েছিলো। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী।