‘বাজেট কম তাই ভালো হচ্ছে না নাটকের মান’

‘ধারাবাহিক নাটকগুলো ২৬ পর্ব হওয়ার পর সাধারণত আমরা গল্পের ধারাবাহিকতা সেভাবে রক্ষা করতে পারি না। আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। তবে গল্পের ডালপালা মেলে এমন একটা অবস্থা তৈরি হয় যে, আমরা কোন গল্পটা ধরে বেসিক পয়েন্টে যাবো সেটা হয়তো আমাদের নির্মাতা-নাট্যকাররা বুঝতে পারেন না! যে কারণে আমরা মূল গল্পের জায়গা থেকে সরে যাই।’

বর্তমান সময়ের ধারাবাহিক নাটকে গল্পের গাঁথুনি ঠিক না প্রসঙ্গে কথাগুলো বলেন নির্মাতা সকাল আহমেদ। তবে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণে বরাবরই সফলতার পরিচয় দিচ্ছেন এই নির্মাতা। সেই ধারাবাহিকতায় তার ‘পিতা বনাম পুত্র গং’ নাটকটি জনপ্রিয়তার সাথে ১শ’ পর্ব পার করলো।

নিজের এমন সাফল্য নিয়ে জানতে চাইলে সকাল আহমেদ আরও বলেন, ‘আমরা নাটকটিতে মূলত একটি বাড়ির ভেতরের গল্প নিয়ে এগুচ্ছি। হটাত্ করে গল্পটিকে শহরে বা অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি না। যাতে করে সকল শিল্পী বেসিক একটি পয়েন্টে নিজেদের অভিনয় করতে পারছেন। আসলে মূল গল্প ধরে এগিয়ে যাওয়ার কারণে এখন অবধি নাটকটি জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছে। আমার বিশ্বাস পরবর্তীতেও এই ধারা সচল রাখতে পারব।’

এদিকে জনপ্রিয় নাট্যকার বৃন্দাবন দাসের রচনায় নাটকটিতে অভিনয় করছেন সিনেমা, ওয়েব সিরিজে এই মুর্হূতে তুমুল জনপ্রিয়তায় থাকা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। বর্তমানে সিনেমা-ওয়েব সিরিজের ব্যস্ততায় এই অভিনেতাকে নাটকে খুব কমই দেখা যায়। সেই জায়গাতে ধারাবাহিকে তার মতো অভিনেতার উপস্থিতি নির্মাতা দর্শকদের জন্য বিশেষ পাওয়া।

চঞ্চলের সঙ্গে কাজ প্রসঙ্গে সকাল আহমেদ বলেন, ‘চঞ্চল চৌধুরী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে। এমন একজন অভিনেতাকে নিজের নাটকে কাস্ট করতে পারাও আমার জন্য বিশেষ। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, টিভিতে প্রচার হওয়া তার একমাত্র ধারাবাহিক পিতা বনাম পুত্র গং।’

এই নাটকটি ছাড়াও আসছে ঈদকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি নাটক এরইমধ্যে নির্মাণ করেছেন সকাল আহমেদ। পাশাপাশি একাধিক নাটকে কাজ হাতে রয়েছে তার। নিজের ব্যস্ততা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে সব দোষ হোসেন আলীর এবং সাদা সাদা কালা কালা নাটক দুটির কাজ শেষ করলাম। দুটি নাটকই ঈদে প্রচারিত হবে। এর বাইরে ফ্রেন্ডস শিরোনামে নতুন একটি সিরিয়ালের কাজ শুরু করেছি। একটি ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে এর গল্প আবর্তিত হবে। ক্যাম্পাসের ৭ জন টিনেজারের প্রেম-বিচ্ছেদ, সুখ-দুঃখ উঠে আসবে নাটকটিতে।’

এদিকে ওটিটির কাজগুলো প্রশংসিত হওয়া টিভি নাটক আরও আড়লে চলে যাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। বিষয়টির সঙ্গে সহমত পোষণ করে সকাল আহমেদ বলেন, ‘হ্যাঁ, কথাটি অবশ্যই সত্য। ওটিটির কাজে যে পরিমাণ বাজেট ও সময় পাওয়া যায় সেটা টিভি নাটকে পাওয়া গেলে এই সমস্যা হতো না। বাজেটের কারণে নাটকের গল্প ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয় না। আমার মনে হয়, টিভি কর্তৃপক্ষকে এ নিয়ে একটি ভাবতে হবে।’

এছাড়া টিভি নাটকের মান কমে যাওয়ার জন্য টিভি কর্তৃপক্ষের চাহিদা, শিল্পীর সংখ্য কম হওয়াকে দায়ী মনে করেন সকাল আহমেদ। তবে উন্মুক্ত মাধ্যমে অনেক নতুন মুখ ভালো কাজ করছে। এই চর্চা টিভি নাটকেও দেখতে চান এই নির্মাতা।