জমি-বাড়িঘরে ফাটল

খাল থেকে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ, নির্বিকার প্রশাসন!

সড়ক মেরামতের জন্য মোংলায় খালে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় আশপাশের জমি ও বসত ঘরবাড়ি ফাঁটল ধরে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

এদিকে, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রতাশ করেছে গ্রামবাসী।

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশতলা গ্রামের বাজার সংলগ্ন সরকারি পুটিমারী খালে (এক সময়ের নদী) আত্মঘাতী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বর জোছনা বেগমের ভাগ্নে মানিক। আর বালু উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান একরাম ইজারদার।

ভুক্তভোগী আলমগীর শেখ, মাহিরা বেগমসহ গ্রামবাসীর অভিযোগ, খাল থেকে বালু উত্তোলন করায় খালের পাড়ের জমি ও বাড়িঘরে ফাটল ধরেছে। এর প্রতিবাদে ঘটনাস্থলে বিক্ষোভসহ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। কিন্তু প্রশাসনের তৎপরতা না থাকায় বহাল তবিয়তে বালু উত্তোলন চলছে।

মূলত চেয়ারম্যানের দাপটের কাছে অনেকটা অসহায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্তারা বলেও অভিযোগ গ্রামবাসীর। প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার বক্তব্য শুধু মুখে মুখেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ড্রেজার মালিক মানিক বলেন, আমাকে চেয়ারম্যান একরাম ইজারদার খাল থেকে বালু উত্তোলন করে রাস্তায় দেওয়ার জন্য বলেছেন, তার কথা মতোই কাজ করছি।

সুন্দরবন ইউপি চেয়ারম্যান একরাম ইজারদার বলেন, সরকারি খাল থেকে বালু উত্তোলনও করা যাবে, আর উত্তোলিত বালু রাস্তায়ও দেয়া যাবে। রাস্তায় মূলত কেনা বালু (শুকনো ঝরঝরে বালু) দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে খালের কাঁদা মাটি। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাফর রানা বলেন, উত্তর বাঁশতলায় ২৭শ ফুট (এক কিলোমিটার) ইটের সোলিং রাস্তা সংস্কারের জন্য ১০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আর ওই রাস্তায় কেনা বালু দিতে হবে, ড্রেজারের মাটি দেওয়ার কথা না। এমন করছে আমার জানা নেই, এমন কাজ করা হলে খতিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি খালে আত্মঘাতী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন যা সম্পূর্ণ অবৈধ করা হচ্ছে। সরেজমিন দেখে অতিসত্বর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর দাশ বলেন, বিষয়টি আমি দেখছি।