ইউক্রেনের গুলিতে রাশিয়ার সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী আহত

দক্ষিণে খেরসনের পরে এখন গোলাগুলি হচ্ছে পূর্ব সীমান্তের ডোনেটস্কে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাত থেকে দখলকৃত অঞ্চলগুলো কেড়ে নেওয়ার জন্য একটি নতুন অভিযান শুরু করেছে। এ হামলায় আহত হয়েছেন সাবেক রুশ উপ-প্রধানমন্ত্রী। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে ভোলোদিমির জেলেনস্কির বাহিনী বুধবার (২১ ডিসেম্বর) ডোনেটস্ক পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করে। সেখানে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে রুশ প্রশাসনের দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।

দক্ষিণে খেরসনের পরে এখন গোলাগুলি হচ্ছে পূর্ব সীমান্তের ডোনেটস্কে।

রুশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম উপদেষ্টা এবং সে দেশের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রোগোজিন ডোনেটস্কের একটি হোটেলে বৈঠক করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ ইউক্রেন সেনাবাহিনীর শেল আছড়ে পড়ে। এতে মস্কো কর্তৃক স্বীকৃত সার্বভৌম ডোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিকের প্রধান প্রশাসক রোগজিন ও ভিটালি খোতসেনকো গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অস্ত্র ও সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে আবেদন জানাতে আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন। তার অনুপস্থিতিতে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর পশ্চাদপসরণ সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী রোগোজিন রাশিয়ার অধিকৃত ডোনেটস্ক অঞ্চলের সামরিক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।

সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রোগোজিন

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার আগে, পুতিন রাশিয়ান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ডোনেটস্ক এবং লুহানস্ক (একত্রে ডনবাস নামে পরিচিত) স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে মস্কোপন্থী সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী সেখানে সক্রিয় রয়েছে। 

তবে মস্কো এখনও ডনবাসে নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। সেপ্টেম্বরের শুরুতে, পুতিনের সরকার গণভোটের মাধ্যমে ইউক্রেনের ডনবাস, সেইসঙ্গে জাপোরিজিয়া ও খেরসন দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেয়। 

পুতিন রাশিয়ান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ডোনেটস্ক এবং লুহানস্ক (একত্রে ডনবাস নামে পরিচিত) স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

মস্কোর দাবি, ইউক্রেনের ১৫ শতাংশ জুড়ে থাকা এই চারটি অঞ্চলের ৮০ শতাংশেরও বেশি বাসিন্দারা রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ২০১৪ সালে রাশিয়া অনুরূপ গণভোটের মাধ্যমে দক্ষিণ ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল করে। 

কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তীব্র প্রতিশোধের কারণে নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাশিয়ান সেনাবাহিনী খেরসন থেকে পিছু হটে। এবার কি ডোনেটস্কের পালা?