‘একটি সুন্দর সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সুফি মতাদর্শের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংসদের মেম্বার হল ক্লাবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সুফিবাদের ভূমিকা কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে সহায়তা করতে পারে এবং বাংলাদেশে যেকোনো ধরনের উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সুফিবাদকে কীভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে তা নিয়ে গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করা হয়।
সুফিবাদ কীভাবে ইসলামের গুণাবলীর মাধ্যমে একটি আধুনিক ও উদার বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারে তার ওপর জোর দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তোরান।
তিনি বলেন, ‘ইসলাম এবং মানবতার নীতির ওপর ভিত্তি করে সুফিবাদের সৃষ্টি। তুরস্কও একটি উদারপন্থী দেশ, আমাদের দেশও সম্প্রীতির বিশ্বকে উন্নীত করার জন্য ইসলামের আদর্শ অনুসরণ করে।’
রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তোরান আরও বলেন, ‘ইসলাম ও সুফিবাদ নিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ফলে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে, যা শেষ পর্যন্ত আগামী যুগে একটি উন্নত বিশ্বের দিকে গিয়ে নিয়ে নিয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী এমপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইসলামের উদারনৈতিক গুণাবলীকে গ্রহণ করেছে। সুফিবাদ মানবতার শান্তি, অগ্রগতি এবং শক্তির অন্তর্নিহিত আদর্শকে প্রতিনিধিত্ব করে। এগুলিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য একটি আদর্শ মাধ্যম হচ্ছে সুফিবাদ।
শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজের জন্য সুফিবাদ ও মানবতাকে সমুন্নত রাখতে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন সেভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ তৈয়বুল বাশার।
এছাড়া গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা, দর্শন, কথোপকথন, বিনিময় কর্মসূচি, নীতি নির্ধারণ এবং একটি উন্নত বিশ্বের জন্য সুফিবাদকে সমুন্নত রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
সেভ অ্যান্ড সার্ভ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ তৈয়বুল বশর মাইজভান্ডারীর সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তুরস্ক অ্যামবাসির কনস্যুলার মি. আজগর।
এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আতাউর রহমান মিয়াজী, প্রফেসর ড. মো. বাহাউদ্দিন, প্রফেসর ড. মো. আবদুল কাদের, প্রফেসর ড. হাদী মাওলনা, ব্যারিস্টার নাদিয়া চৌধুরী, মি. নির্মল রোজারিও, মি. নির্মল চ্যার্টাজিসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর ব্যক্তিবর্গ।