বিএনপি কীভাবে আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি কীভাবে আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন যা সকলে মেনে নিয়েছিল সে নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল। 

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গণভবনে দলীয় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সে নির্বাচন নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছিল এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি কি দেশ ও জনগণের জন্য ভালো কোনো কিছু করছে যার মাধ্যমে তারা তাদের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে তুলবে, যে কারণে জনগণ তাদের দলকে আবার ক্ষমতায় বসাবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছে। জিয়াউর রহমান দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রহসনমূলক হ্যাঁ/না ভোট এবং সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করেছিল। জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়াও ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনমূলক নির্বাচন করেছিলেন যাতে কোনো রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি।

গণভবনে দলীয় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভোট কারচুপি কখনো মেনে নেয়নি বলেই নির্বাচনের দেড় মাসের মধ্যে আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। ২০০৬ সালে ১.২৩ কোটি জাল ভোটারের তালিকা নিয়ে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়াস চালালে তা বাতিল করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফরুল্লাহসহ অনেকে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। 

গণভবনে দলীয় সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

আগামী ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ২২তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও যুব মহিলা লীগের নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কেএম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের জানান, এর আগে দুই সংগঠনের নবনির্বাচিত নেতারা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বাসস