নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল চাষাড়ায় স্মৃতিস্তম্ভের পাশে ময়লা আবর্জনার স্তূপ থাকায় মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে প্রকাশ্যে নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, অন্যথায় আপনাকে উত্খাতের জন্য নিহত ও আহতদের পরিবারবর্গসহ নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামবো। তিনি বলেন, আমি নিন্দা জানাই যে, এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ (চাষাড়ায় প্রাক্তন আওয়ামী লীগ কার্যালয়) রয়েছে যেখানে ২০ জন মানুষ শহীদ হয়েছেন। এটি একটি পবিত্র স্থান কিন্তু এখানে একটি ডাস্টবিন রাখা হয়েছে।
গতকাল রবিবার সকালে চাষাড়ার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পেছনে ২০০১ সালের ১৬ জুন মর্মান্তিক বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতির মিনার ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি এসব কথা বলেন। চন্দনশীল আরো বলেন, সেদিন টার্গেট ছিল শামীম ওসমান যিনি নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি। এই ১৬ জুনকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি মহল বলছে মুফতি হান্নান, মোরসালীন, মোত্তাকিনরা বারবার স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তারা এই বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত। কিন্তু আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার বলছি যে মুফতি হান্নান, মোরসালীন, মোত্তাকিনরা শুধু তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। এর পেছনে মূল পরিকল্পনাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। চন্দনশীল আরো বলেন, আমরা নিশ্চিত এই হত্যাকাণ্ডের সাথে বিএনপি জামায়াত জোট এবং স্বাধীনতা বিরোধী চক্র জড়িত আছে। এর প্রমাণ তারা বারবার দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১৬ জুন তত্কালীন এমপি শামীম ওসমানের গণসংযোগকালে চাষাড়া শহীদ মিনার ঘেঁষা আওয়ামী লীগ অফিসে রাত পৌনে ৯টার দিকে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হামলায় ২০ জন নিহত ও শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক আহত হন। সেখানে দুই পা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ববরণ করেন চন্দন শীল।