ইংরেজি ক্যালেন্ডারের হিসাব মতে তারিখটা আজ ২৪ ডিসেম্বর ২০২২। ১৯৫৩ সালে ঠিক আজকের এই তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাটি জাতীয় দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ২৫ ডিসেম্বরের প্রথম প্রহরে এই দৈনিক পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। এর আগে ১৯৪৯ সালের ১৫ আগস্ট থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে যাত্রা শুরু হয় দৈনিক ইত্তেফাকের। তখন পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, প্রকাশক ছিলেন ইয়ার মোহাম্মদ খান এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তাদের নিরন্তর পরিশ্রম এবং অক্লান্ত চেষ্টার ফসল আজকের দৈনিক ইত্তেফাক।
সময়ের পরিক্রমায় গুটি গুটি পায়ে হাজির হলো গণমানুষের মুখপত্র দৈনিক ইত্তেফাকের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। সকালের চা এবং দৈনিক ইত্তেফাক এখন অনেকের কাছে পরিপূরক। শরতের সকালে কিংবা শীতের সকালে গরম গরম চা খাওয়া এবং দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিটা পাতা উলটে দেখা এখন অনেকের একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে গণমাধ্যমের মূলমন্ত্র হলো সময়ের দাবি মেটানো। জন্মলগ্ন থেকেই দৈনিক ইত্তেফাক সময়ের সেই দাবি মিটিয়ে আসছে। সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সমাজ ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে সামনের দিকে ইতিবাচকভাবে পরিচালিত করার লক্ষ্যে সমাজের দর্পণগুলোতে তরুণ প্রজন্মের নিরংকুশ অংশগ্রহণ এখন বড্ড প্রয়োজন। কারণ আগামীতে পুরো সমাজ তথা পুরো দেশ এবং দেশের হাল ধরবে এই তরুণ প্রজন্ম। সে জন্য তারা যাতে অন্যের অবস্থানে নিজেদের বসিয়ে অন্যের মতামতের মূল্যায়ন করার সুযোগ পায় সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই জাতীয় পত্রিকাটিতে ‘নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ নামক আলাদা কলাম লেখার ব্যবস্থা করেছে। ফলে তরুণ সমাজের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অন্যের এবং সমাজের প্রতি মূল্যয়নবোধ। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, তরুণদের মধ্যে সমাজের সমস্যা কিংবা সাফল্য উভয়ই সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করার সক্ষমতাও গড়ে উঠছে দৈনিক ইত্তেফাকের এসব তরতাজা কলামের হাত ধরে ।
এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, ইত্তেফাকের এই চমত্কার প্ল্যাটফরমে লেখালেখির সুযোগ পেয়ে তরুণেরা অতি উৎসাহের সঙ্গে সমাজের সমসাময়িক উন্নতি-অগ্রগতি এবং সমস্যা-অবনতি নিয়ে নিরপেক্ষভাবে লিখে যাচ্ছে। এতে তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতার বিকাশ হচ্ছে। মসি অসির চেয়ে শক্তিশালী। ফলে অনাচারের বিরুদ্ধে তরুণেরা যুদ্ধ ঘোষণা করা শিখছে শুধু তাদের লেখনীর জাদুময়ী শক্তি দিয়ে। এ জাদুময়ী শক্তির কাছে পারমাণবিক যুদ্ধও হার মানতে বাধ্য।
তরুণেরা আজ কলম দিয়ে নিজেদের মধ্যে আত্ম-মর্যাদাবোধ এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে এবং লেখালেখির মতো একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তুলছে। দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতি সাধারণ মানুষের সীমাহীন ভালোবাসা এই পত্রিকাটিকে আরও বহু দূরে নিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাবে। গণতন্ত্রের মানসপুত্র শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ ইত্তেফাক প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন সে সব কারিগরদের ত্যাগ ও শ্রম কখনো বৃথা যেতে পারে না। ইত্তেফাক শত বছর পেরিয়ে হাজার হাজার বছর বেঁচে থাকুক মাথা উঁচু করে, এটাই একান্ত প্রত্যাশা। অতএব, ইত্তেফাক মানেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা। যা কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয় ‘ চির উন্নত মম শির’।
লেখক: শিক্ষার্থী, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়