সাংবাদিকতার আদর্শ থেকে কখনোই বিচ্যুত হবে না ইত্তেফাক। দীর্ঘ সাত দশকের সংগ্রামমুখর যাত্রায় ইত্তেফাক অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেনি। ভবিষ্যতেও ইত্তেফাক তার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গণমুখী সাংবাদিকতার পথ থেকে সরে আসবে না এই প্রত্যাশার কথা জানালেন ইত্তেফাক পরিবারের প্রতিটি সদস্য। শনিবার ঢাকাসহ সারাদেশে আগামী দিনগুলিতেও সত্য, ন্যায় ও গণমুখী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে উদযাপিত হলো দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসায় ৭০ বছরে পা দিলো ‘দৈনিক ইত্তেফাক’।
এ উপলক্ষে কাওরান বাজারের জেনিথ টাওয়ার নিজস্ব ভবনে ইত্তেফাক অফিস ভরে উঠেছিল পত্রিকার শুভার্থী, বন্ধু, বিজ্ঞাপনদাতাদের পদচারণায়। সারাদিন ধরেই উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই উদযাপন করলো এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটিকে। দেশের প্রতিটি বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে পত্রিকাটি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসাই ছিল দৈনিক ইত্তেফাকের সুদীর্ঘ পথচলার একমাত্র শক্তি ও সাহস।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কেক কেটে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকীয়ণ্ডলীর সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও ইত্তেফাক-এর সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সঙ্গে এ কেক কাটায় অংশ নেন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় ইত্তেফাক এর কার্যনির্বাহী পরিচালক মহিবুল আহসান শাওন ও পরিচালক রেজাউল আহসান ফাগুন উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন সংগঠন ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে ইত্তেফাক ভবনে আসেন। সারাদিন ধরেই তাদের এই শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন ইত্তেফাকের প্রাণপুরুষ আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও তাসমিমা হোসেন।
শুভেচ্ছা জানাতে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, জাতীয় পার্টি-জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম, মানবজমিন এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের পক্ষে চ্যানেলটির প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ.ই. মামুন, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা (নিউজ) ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণসহ অনেকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইত্তেফাক পরিবারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু ও মানিক মিয়া ছিলেন দেশের রাজনৈতিক দিক নির্দেশনার ক্ষেত্রে অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুক্তিযুদ্ধের আগে সেই উত্তাল দিনগুলিতে দৈনিক ইত্তেফাক পড়ে আমরা রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনা পেয়েছি। সেইসময় গ্রামে-গঞ্জের মানুষ ইত্তেফাক পড়েই দেশের রাজনৈতিক গতিধারার খবর পেতো। ইত্তেফাক ছিল বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম মুখপত্র। ইত্তেফাক সবসময় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেছে। কখনো গুজব ছড়ায়নি। আজকের দিনেও দৈনিক ইত্তেফাক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে চলেছে। ইত্তেফাক এর যাত্রা অব্যাহত থাকুক এটাই প্রত্যাশা।
দৈনিক ইত্তেফাকের এই আন্দঘন মুহূর্তে সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাসের সঙ্গে ইত্তেফাকের সাংবাদিকতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে স্বাধিকার আন্দোলনের যে প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে তার সাথে ইত্তেফাক ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত ছিল। দৈনিক ইত্তেফাক মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই অর্জনকে অবলম্বন করেই সামনে এগিয়ে যাবে। ইত্তেফাক সবসময় দেশের ক্রান্তিকালে মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার শক্তি যুগিয়েছে। আগামীতেও গণমানুষের মুখপত্র হিসাবেই ইত্তেফাক তার দায়িত্ব পালন করে যাবে।
শুভেচ্ছা জানাতে আসেন র্যাব লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের পক্ষে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার ফারুক আহমেদ, পুলিশের আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির হোসেন।
শুভেচ্ছা জানান প্রেসিডিয়াম সদস্য সাদেক সিদ্দিকী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক এমপি রুহুল আমিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, কেন্দ্রীয় নেতা সারোয়ার হোসেন ও জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী।
এ সময় বাফুফে এর সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। আরও শুভেচ্ছা জানান ওয়ালটন গ্রুপের পক্ষ থেকে ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান, ল্যাব এইড গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. এ এম শামীমের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়। এনআরবিসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাবলিক রিলেশন অফিসার হারুনুর রশিদ প্রমুখ। শুভেচ্ছা জানায় প্রাণ-আরএফএল, জাতীয় যুব সংহতি, ডিরেক্টর্স গিল্ড, অনন্যা, মানবজমিন পরিবার।
এদিকে, ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) এর পক্ষ শুভেচ্ছা জানান কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুর রহমান। তারা বলেন, সৃজনশীল কর্মযজ্ঞে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে দৈনিক ইত্তেফাক অতীতের গৌরব ও ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাবে।
৭০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে কাওরান বাজারের নিজস্ব ভবনে ইত্তেফাক অফিস ভরে উঠেছিল সংবাদপত্রটির সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শুভানুধ্যায়ীদের পদচারনায়। সারাদিন ধরেই উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই উদযাপন করলো এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটিকে। পরিকল্পনা ছিল ঘরোয়াভাবে ইত্তেফাকের সদস্যরা মিলে দিনটি উদযাপনের। কিন্তু এর মাঝেও অনেক শুভার্থী, রাজনীতিক, বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা ইত্তেফাক ভবনে এসে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
অতিথিদের স্বাগত জানান ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী পরিচালক মহিবুল আহসান শাওন, বার্তা সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক অশোক কুমার সিংহও সিটি এডিটর আবুল খায়ের।
এছাড়া শুভেচ্ছা জানান, দৈনিক ইত্তেফাক স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ইত্তেফাক ইউনিটের প্রধান আবুল খায়ের, ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাক (এনএনপিপি) ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান পিন্টু, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম আকতার, সাধারণ সম্পাদক আলী আমজাদ মারুফ।
প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে ফুল দিয়ে আরও শুভেচ্ছা জানায়, ঢাকা সংবাদপত্র হকার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষে সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, সংবাদপত্র হকার্স কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পক্ষে সভাপতি সালাউদ্দিন মো. নোমান ও সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশান, খুলনা মহানগর এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।