‘খারাপ কাজগুলো না দেখলে ভালো কাজ বেশি হবে’

দেশের বরেণ্য অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। অভিনয়ের সকল মাধ্যামের সফল এই মানুষটির কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল ২০২২ সালের শোবিজ অঙ্গন নিয়ে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তারই ব্যাখ্যা দিলেন অকপটে। সাক্ষাৎকার নিয়েছে এ এম রুবেল

চলতি বছর বেশ কয়েকটি প্রশংসিত কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, একাধিক পুরস্কারও ঘরে তুলেছেন। অর্জনগুলো কেমন উপভোগ করলেন?
হ্যাঁ, চলতি বছর বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকসহ বেশ কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ কাজের সুযোগ পেয়েছিলাম। পাশাপাশি ওটিটির কিছু কাজ করেছি। যেগুলো দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। ২০২১ এবং ২০২২ সালের কাজের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার, চ্যানেল আই ডিজিটাল অ্যাওয়ার্ড, চরকির অ্যাওয়ার্ডসহ অনেকগুলো পুরস্কার পেয়েছি। সব মিলিয়ে এ বছরটি ভালোই গেল। আশা করছি নতুন বছরও যদি সুস্থ থাকি তবে সুন্দর যাবে। তবে আমি বরাবরই বর্তমানকে গুরুত্ব দিই।

চলচ্চিত্রে নতুন হাওয়া পেয়েছে। আপনার চোখে এই পরিবর্তনগুলো কেমন?
আমাদের জন্য আশার দিক যে, আমাদের চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বলতে পারেন, চলচ্চিত্রের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। সেই জায়গা থেকে বলবো এই ধারাটা অব্যাহত থাকুক। এখন ফর্মেটের চলচ্চিত্র চলছে না। নতুনভাবে গল্প বলা হচ্ছে এবং দেশ-বিদেশে চলচ্চিত্রগুলো প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।

২০২২ ঠিক কোন কোন কারণে মনে হচ্ছে শোবিজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
এটা আমি বছর না, সময় বলবো। আসলে আমরা ৩৬৫ দিন পার করলাম। এই সময়ে আমাদের নতুন একটি যাত্রা শুরু হলো। ওই যে বললাম, শোবিজে নতুন ধারা যুক্ত হয়েছে। এটার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে সামনেও আরও ভালো ভালো কাজ আমরা করতে পারব।

বছরটি নির্মাতা নাকি শিল্পীর, কার বছর ছিল মনে করছেন?
বিষয়টিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা ঠিক হবে না। সবাই মিলেই আমরা আসলে কাজ করি। একজন নির্মাতা-শিল্পী যতই ভালো হোক, সমন্বয় না হলে তাহলে কিন্তু কাজটি সুন্দর হবে না। আমি মনে করি শিল্পী, নির্মাতা, ক্যামেরাম্যান, লাইটম্যানসহ সকল কলা-কুশলী নিয়েই একটি প্রোডাকশন আলোর মুখ দেখে।

কিন্তু চলতি বছর সেন্সর জটিলতা নিয়ে নানা তর্ক হয়েছে। আপনারা অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। আসলে সেন্সরে পরিবর্তন দরকার কি-না বা হবে কি-না?
আমি মনে করি, আমাদের এই স্বাধীনতা থাকা দরকার। নির্মাতাকে অনেক কথা বলতে দিতে হবে। উন্নত দেশে কিন্তু এই জটিলতাগুলো নেই। আশা করছি, আমাদের সেন্সর সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা বিষয়টি বুঝতে সক্ষম হবেন। আমাদেরও তাদের অবগত করতে হবে। আসলে সব ধরনের জিনিসই মানুষ দেখবেন। এটাকে পার্সোনালি নেওয়ার কিছু নেই। এটা তো একটা ফিকশন। এখানে একজন ডাক্তার খারাপ দেখালে পুরো ডাক্তার সমাজ মনে করেছে তাদের খারাপ বলা হচ্ছে। এটা তো ঠিক না। আমাদের এই পুরনো চিন্তা থেকে বের হতে হবে। একজন মানুষ ভালো-খারাপ হতেই পারে, তাই বলে সবাই তো খারাপ না। একজনকে দেখে সবাইকে বিচার করা যাবে না।

ওটিটির ডেভেলপমেন্ট আপনার কাছে কেমন মনে হয়?
দেখুন, এটা তো পেইড চ্যানেল। আমাদের তো ফ্রি দেখার একটা প্রবণতা রয়েছে। তাছাড়া ওটিটিতে অভ্যস্ত হওয়ারও একটি বিষয় আছে। পাশাপাশি মানুষের সামর্থ্যের বিষয়টিও রয়েছে। আমি মনে করি একটু সময় পেলে মানুষের টাকা দিয়ে ভালো কন্টেন্ট দেখার অভ্যাস হবে। তবে এটাও কিন্তু সত্য যে, এরইমধ্যে ওটিটি মাধ্যমে আগের চেয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে।

নাটক টিভি ও ইউটিউবে ভাগ হওয়ায় সিনিয়ন শিল্পীরা অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। ওটিটির অবস্থান শক্ত হলে এই সংকট কমে যাবে মনে করছেন?
ওটিটি আসায় কিন্তু আমাদের প্রকৃত শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। তবে শুধু ওটিটি না, সিনেমা-নাটকেও কিন্তু সিনিয়রা কাজ করছেন। বেশি কাজ হলে সেখানে কিছু খারাপ কাজ হবেই। যেহেতু আমাদের হাতে এখন অপশন আছে সেহেতু আমরা খারাপ কাজগুলো না দেখলে ভালো কাজ বেশি হবে।