দীর্ঘ ৩৩ মাস পর করোনা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে রোববার (২৫ ডিসেম্বর) খুলে দেওয়া হয়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পাশের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির প্রধান ফটক। এতে স্বস্তি ফিরেছে খনিশ্রমিকসহ তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে।
জানা যায়, করোনা মহামারীর কারণে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধ দিয়ে ২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে খনির প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৩ মাস খনির প্রধান ফটক বন্ধ ছিল। কর্তৃপক্ষ করোনা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে রোববার সকাল থেকে খনির প্রধান ফটক খুলে দেয়। এখন থেকে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে প্রধান ফটক খোলা থাকবে।
বড়পুকরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ বিধিনিষেধ আরোপ করার পর বিশেষ নির্দেশনা ছাড়া প্রধান ফটক খোলা হতো না। ওই সময় খনির অভ্যন্তরে কর্মরত দেশি শ্রমিকদের খনির অভ্যন্তরে ১৫ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষ করে কাজে যোগ দিতে হতো। বিধিনিষেধের কারণে খনিশ্রমিকদের দিনের পর দিন খনির অভ্যন্তরে অবস্থান করে কাজ করতে হতো। তাদের স্বাভাবিক নিয়মে বাইরে যাতায়াত নিষেধ ছিল। এমনকি শ্রমিকরা চাইলেই পরিবারের স্বজনদের সাথে দেখা করার সুযোগ ছিল না। এই অমানবিক দুর্ভোগ ও দুর্যোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য খনির প্রধান ফটক উন্মুক্ত করার জন্য শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিলেন।
খনির প্রধান ফটক খুলে দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, করোনা কমে যাওয়ায় এবং খনিশ্রমিকদের কাজের সুবিধায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে খনির প্রধান ফটক খুলে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে খনির প্রধান ফটক আগের মতোই খোলা থাকবে।